✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৮, | ২০:৪২:২৩ |ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) এবং একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আসামি নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসেন। খবর পেয়ে ছাত্রীটি সেখানে গেলে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান।
পরবর্তীকালে আসামিরা তাকে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ ও ছবি তোলে। পাশবিক নির্যাতনে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে আসামিরা তাকে পুনরায় নৌকায় করে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় হাজির হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, ‘আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।’