✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৬, | ১৫:০৪:২৬ |ঋতুচক্রের পথপরিক্রমায় শনিবার (১৫ আগস্ট) বর্ষা ঋতু আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে। আজ রবিবার থেকে পথচলা শুরু করল শরৎ ঋতুর ভাদ্র মাস। এ ঋতুতে আকাশে মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াবে। আর বর্ষা প্রকৃতিকে শীতল রাখতে বৃষ্টি ঝরাবে। কিন্তু এবার প্রকৃতি এতটাই রুক্ষ হয়েছে যে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি। পুরো আগস্টে বৃষ্টি হওয়ার কথা সাড়ে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি। সেখানে দুই সপ্তাহে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারেরও কম। ফলে কয়েকটি জেলায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ।
এতে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রকৃতি তাপদাহে পুড়ছে, তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে আগস্ট মাসে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। উষ্ণতার কারণে মানুষ, কৃষি, প্রাণী ও মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রংপুরসহ আশপাশের এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলের স্থলভাগে তাপপ্রবাহের ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে। তাপপ্রবাহের কারণে খরার প্রবণতাও দেখা দিচ্ছে। অনেক স্থানে আগস্ট মাসেই তাপপ্রবাহ বইতে দেখা গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন বছরে তা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
আবহাওয়া অফিসের মতে, এ বছর আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হবে। পুরো মাসে সাড়ে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও ১৫ দিনে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৯০ মিলিমিটার। এ অঞ্চল থেকে বৃষ্টিবলয় দূরে থাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তপ্ত আবহাওয়া বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার বেলা ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুরে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি, ডিমলায় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে। তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায় বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণতা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এ অঞ্চলের নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়া। পানি কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বৃষ্টিবলয় তৈরি হচ্ছে না। এ ছাড়া পরিবেশদূষণের কারণেও এ অঞ্চলে উষ্ণতা বাড়ছে। বর্জ্য পচে-গলে দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে মারাত্মক পরিবেশদূষণ করছে। এসব বর্জ্যের মধ্যে হোটেল ও রেস্তোরাঁর আবর্জনা, শিল্পকারখানা থেকে উৎপাদিত বর্জ্য, রান্নাঘরের পরিত্যক্ত আবর্জনা, হাটবাজারের পচনশীল শাকসবজি ও কসাইখানার রক্ত অন্যতম। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখায় বাতাস ও মাটি দূষিত হচ্ছে। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য থেকে অনেক প্রাণী হারিয়ে যেতে পারে। এ অঞ্চল দ্রুত মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাবে।
এদিকে রংপুর বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘন ঘন লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে চরমে। হাসপাতালের রোগীরাও রয়েছেন মারাত্মক বেকায়দায়।
রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে উষ্ণতা বাড়ছে। এর কয়েকটি কারণ হলো বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন, মেঘের বলয় দূরে সরে যাওয়া এবং পরিবেশদূষণ।