ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে রুশ জাহাজে খাঁচা ও পানির ট্যাংক!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৩, | ২২:২৩:০৭ |

ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে নিজেদের জাহাজে অভিনব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্ত করছে রাশিয়া। তেলের ট্যাংকারগুলোতে এখন ড্রোন-প্রতিরোধী জাল, ধাতব খাঁচা এমনকি পানির ট্যাংকও লাগানো হচ্ছে। সাগরে ভাসমান এসব জাহাজ দেখতে এখন অনেকটা ‘ম্যাড ম্যাক্স’ সিনেমার দৃশ্যপটের মতোই লাগছে।

সম্প্রতি বসফরাস প্রণালি পার হওয়ার সময় ২৮ বছরের পুরোনো ট্যাংকার ‘কারুজো’-তে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ট্যাংকারটির চারপাশে ড্রোন-প্রতিরোধী জাল এবং ছাদে খাঁচার মতো কাঠামো ছিল। ড্রোনের আঘাতের জোর কমাতে এতে পানির ট্যাংকও যুক্ত করা হয়।

বিশ্লেষক ইয়োরুক ইসিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিজভেল’ নামের আরেকটি রুশ ট্যাংকারেও একই ধরনের জাল দেখা গেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, ভয়ে নাবিকেরা নিজেদের ওই কাঠামোর ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

মূলত রাশিয়ার সামরিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে কিয়েভ চালকবিহীন নৌযান এবং ড্রোন দিয়ে হামলা বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আজভ ও কৃষ্ণসাগরে অন্তত ২১৮টি রুশ-সংশ্লিষ্ট নৌযানে আঘাত হেনেছে ইউক্রেন।

তবে এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নভোরোসিস্ক টার্মিনালের কাছে হামলা থামাতে কিয়েভকে অনুরোধ করেছেন। কৃষ্ণসাগরে জাহাজের বিমা ও পরিবহন খরচও এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে।

শুধু জাহাজ নয়, নভোরোসিস্ক নৌঘাঁটির নিরাপত্তাও জোরদার করেছে মস্কো। স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির চারপাশে বিশাল জাল ও ব্যারিকেড দেখা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, নভোরোসিস্কে তারা একটি ‘অনন্যসাধারণ অভিযান’ চালিয়েছেন। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে রুশ জাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বন্দর অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..