✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৭, | ১৯:২০:৪৩ |ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে মিলিয়ে ৩৪ রান করা ব্যাটার মারনাস লাবুশেন টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ম্যাকায়ে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় টেস্টের দল নির্বাচনের জন্য নির্বাচকরা বৈঠকে বসেন। এতে লাবুশেন এবং ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করছেন কর্মকর্তারা।
প্রথম ইনিংসে ১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রান করেন মারনাস লাবুশেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ সেঞ্চুরির পর থেকে লাবুশেনের টেস্ট সেঞ্চুরি খরা ৪২ ইনিংসে গিয়ে ঠেকেছে। এই সময়ে তিনি ২৫.৩২ গড়ে রান করেছেন এবং নয়টি হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর তাকে নিজের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এরপর গত গ্রীষ্মের শুরুতে শেফিল্ড শিল্ড ও ওয়ানডে ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে নয় ইনিংসে পাঁচটি সেঞ্চুরি করে তিনি অ্যাশেজ সিরিজের দলে ফিরে আসেন।
অ্যাশেজ সিরিজের শুরুতে দুটি হাফ-সেঞ্চুরি করলেও, পরবর্তী নয়টি টেস্ট ইনিংসে তিনি ১৮.৪৪ গড়ে মাত্র ১৬৬ রান করতে পেরেছেন। এর মধ্যে শেষ চারটি ইনিংসের তিনটিতেই তিনি ৩০-এর ঘরে পৌঁছালেও কোনোটিকেই হাফ-সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেননি। অজিদের কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ক্রিজে লাবুশেন তার কৌশলে যে উন্নতিই দেখান না কেন, শেষ পর্যন্ত তার রান পাওয়াটা জরুরি।
লাবুশেনের বয়স ৩২ বছর এবং তিনি ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট মহলে প্রচলিত ধারণা হলো, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার বাদ পড়লে তার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এই প্রেক্ষাপটটি দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তটিকে নিছক ফর্মভিত্তিক সাধারণ সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য ৩ নম্বর পজিশনটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তার বিষয়ও রয়েছে। স্টিভ স্মিথ আর কতদিন টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দল চাইছে স্মিথ সরে দাঁড়ানোর আগেই একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারকে এই পজিশনে থিতু করে তুলতে। স্মিথ ইতোমধ্যেই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে
সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও লাবুশেনকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে নির্বাচকরা লাবুশেনকে দল থেকে বাদ না দিয়ে ব্যাটিং অর্ডারে ৭ নম্বর অবস্থানে নামিয়ে দিয়েছিলেন। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দলে পরিবর্তনের বিষয়ে ওঠা জনদাবির প্রসঙ্গটি সরাসরি উল্লেখ করেছেন ম্যাকডোনাল্ড।
তিনি বলেন, পরিবর্তনের দাবি তোলাটা সহজ একটি বিষয়। আমরা যখন জিতি, তখনও অনেকে পরিবর্তনের কথা বলেন। তাই এমন পারফরম্যান্সের পর তাদের সেই দাবি জানানোর অধিকার তো আছেই। তারা কেনই-বা তা করবেন না? এটাই আমাদের পেশার অংশ। ম্যাচ হারলে এমন কিছু খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই, যারা নিজেদের বা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছেন না।
ওয়েদারাল্ডও সমানভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ডারউইনে তিনি ২৩ ও ০ রান করেছিলেন এবং ১২টি টেস্ট ইনিংস শেষে তার গড় এখন ২০.৩৬। এলবিডব্লিউ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে অ্যাশেজ সিরিজের পর তিনি তার ব্যাটিংয়ের ধরনে কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। কিন্তু সেই পরিবর্তনগুলো অফ-স্টাম্পের বাইরের বল খেলার ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।
অজিদের ১৩ সদস্যের দলে অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে একমাত্র জশ ইংলিস রয়েছেন, তবে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্যারিয়ারে তিনি মাত্র ছয়বার শীর্ষ তিন পজিশনে ব্যাট করেছেন। সিরিজের প্রস্তুতির সময় ব্রিসবেনে বর্ধিত দলের সঙ্গে ম্যাট রেনশ এবং কুপার কনোলিও অনুশীলন করেছিলেন। শীর্ষ তিন পজিশনে খেলার জন্য এই তিনজনের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী রেনশকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে তার গড় ছিল ৪৯.৯০, যা ছিল সর্বোচ্চ।
শীর্ষ ২৫ জন রান-সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি রয়েছেন এবং ১০টি ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাদা বলের ফরম্যাটে নিজের শুরুর দিকের পারফরম্যান্স দিয়েও তিনি নির্বাচকদের মুগ্ধ করেছেন। ম্যাকায়ে তার খেলার রেকর্ড বেশ উল্লেখযোগ্য। ‘শিল্ড’ টুর্নামেন্টের তিনটি ইনিংসের মধ্যে দুটিতেই তিনি যথাক্রমে ১৭০ ও ১৩৫ রান করেছেন।
অন্যদিকে ২২ বছর বয়সী কনোলি প্রায় দুই মাস আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে ওপেন করতে নেমে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনি মাত্র একবারই ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনজনের মধ্যে খেলেছেন এবং এই ফরম্যাটে তার কোনো সেঞ্চুরি নেই। স্যাম কনস্টাস এবং ক্যাম্পবেল কেলওয়ে উভয়েই ‘সিএ একাদশ’-এর ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি, তবে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে নিজেদের খেলার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
ম্যাকডোনাল্ড বলেন, হারের পর দলে পরিবর্তনের দাবি ওঠাটাই স্বাভাবিক। বাইরের মহল এবং দলের ভেতর থেকেও এ নিয়ে নানা আবেগ বা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আমাদের খেলোয়াড়রা এই মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে বসে আছে এবং তারা সেই পরিস্থিতিটা অনুভব করছে। টেস্ট ম্যাচে হারলে তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। তিনি আরও বলেন, দল নির্বাচনের পরবর্তী সিদ্ধান্তটিই হবে তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ডারউইনের হারের স্বাদ ভুলে সিরিজ সমতায় ফেরাই এখন অজিদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ঐতিহাসিক জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে রয়েছে সিরিজ জয়ের সুযোগ।