সাত বছর পর অবশেষে টেসলা সেমি ট্রাকের উৎপাদন শুরু

ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষার পর মাস্ক বলেছেন, ট্রাকটি চালানোর সময় ‘স্পোর্টস কারের মতো অনুভূতি হয়’। ছবি: টেসলা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৩, | ২১:১৫:৪৫ |
নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পর অবশেষে বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়েছে টেসলার বহুল প্রতীক্ষিত সেমি ট্রাকের।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, ২০১৭ সালে উন্মোচনের পর থেকে বারবার সময়সীমা পিছিয়ে গেলেও এবার পূর্ণ গতিতে ট্রাকটি বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক।

টেসলার ইলেকট্রিক এ ট্রাকটি প্রথম উন্মোচনের সময় কোম্পানিটির সিইও মাস্ক বলেছিলেন, ২০১৯ সাল থেকেই এর উৎপাদন শুরু হবে।

পরবর্তীতে সেই লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে ২০২০, এরপর ২০২১ এবং সবশেষে ২০২২ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়। এরপর ছোট এক পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত আকারে কিছু ট্রাক ‘পেপসিকো’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে নেভাদায় টেসলার ‘গিগাফ্যাক্টরি’র ৩৬০ কোটি ডলারের সম্প্রসারণের মধ্যে এ সেমি ট্রাকের জন্য বিশেষ এক কারখানা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালে এসে বড় পরিসরে উৎপাদনের সেই লক্ষ্যমাত্রা আবারও পিছিয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ হয়েছে।

অন্যদিকে, ভলভো তাদের ইলেকট্রিক ট্রাকের ঘোষণা দিয়েছিল টেসলা সেমি উন্মোচনের এক বছর পর এবং এর এক বছর পরেই তারা বড় পরিসরে এর উৎপাদন শুরু করেছে।

বর্তমানে সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি ইলেকট্রিক ট্রাক উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

টেসলার এ সময়সীমা বারবার পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মাস্কের পুরানো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি তার বিভিন্ন কোম্পানির জন্য প্রায়ই অতিরিক্ত আশাবাদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকেন, যা সময়মতো বাজারে আসে না।

২০১৭ সালে সেমি ট্রাকের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রজন্মের ‘টেসলা রোডস্টার’ উন্মোচিত হয়েছিল, যার উৎপাদন ২০২০ সালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন সেটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়েছে।

কোম্পানির ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ বা এফসিডি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের দেরি দেখা গেছে এবং উৎপাদন জটিলতার কারণে ‘মডেল ৩’ বাজারে আনতেও সময় লেগেছিল টেসলার।

স্পেসএক্সের ক্ষেত্রেও মাস্ক তার মঙ্গল গ্রহে রকেট পাঠানোর সময়সীমা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন, কোম্পানির ‘স্টারশিপ’ রকেটের মাধ্যমে ২০২২ সালেই এ অভিযান শুরু হবে।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে, স্টারশিপ রকেটটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং মঙ্গল গ্রহে যে কোনো মিশন পরিচালনা করতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।

সেমি ট্রাকের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পরও টেসলা বলেছে, তারা টেক্সাসে তাদের ১৭ লাখ বর্গফুটের কারখানায় বছরে ৫০ হাজার ট্রাক তৈরির আশা রাখছে।

প্রায় এক দশক আগে টেসলার সেমি ট্রাকটি প্রথম উন্মোচনের সময় মাস্ক দাবি করেছিলেন, ট্রাকটি এক হাজার হর্সপাওয়ারের বেশি শক্তি জোগাবে এবং ‘এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক ট্রাক’ হবে।

কেবল ২০ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগ তুলতে পারার বিষয়টি সাধারণ জ্বালানিচালিত সেমি ট্রাকের চেয়ে তিন গুণ দ্রুততর।

মাস্ক আরও বলেছিলেন, এর ‘লং রেঞ্জ’ সংস্করণটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড রেঞ্জ’ সংস্করণটি ৫২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে।

ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষার পর মাস্ক বলেছেন, ট্রাকটি চালানোর সময় ‘স্পোর্টস কারের মতো অনুভূতি হয়’।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..