✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৩, | ২১:০১:২৮ |যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের মধ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক ‘বাকযুদ্ধ’ এখন দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্জের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই উত্তজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জার্মানির মার্শবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মার্জের একটি ব্যক্তিগত আলাপ থেকে। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ‘অপমানজনক’। তিনি বলেন, ইরানিরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে এবং তারা মার্কিন প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে পরাজিত করছে। তার এই মন্তব্য প্রকাশ হওয়ার পরই ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক পোস্টে মার্জের কঠোর সমালোচনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মার্জ চান ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করুক। ট্রাম্প আরও বলেন, মার্জের উচিত অন্য দেশের বিষয়ে নাক না গলিয়ে নিজের ‘ভেঙে পড়া দেশ’ ঠিক করা।
এই বিরোধের জেরে ট্রাম্প বড় ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮,০০০ মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি রয়েছে জার্মানিতে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যানরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো বিপদের সময় আমেরিকার পাশে না দাঁড়ানোয় এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যান্সেলর মার্জ ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি জার্মান সেনাবাহিনীতে মার্কিন কর্মকর্তাদের উচ্চপদে নিয়োগের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। জার্মানি বর্তমানে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্জের একটি অসতর্ক মন্তব্য সব অর্জনকে নষ্ট করে দিয়েছে বলে মনে করছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ডিরেক্টর জর্ন ফ্লেক।
মূলত এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ করা হতো, যা যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং জার্মানি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও জানিয়েছেন, যুদ্ধের বিষয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। এদিকে ট্রাম্পের সমালোচনা থেকে বাদ যাননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ব্রেট ব্রুয়েন মনে করেন, ট্রাম্পের এই আচরণ মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, মিত্রদের আগাম কোনো তথ্য না দিয়ে এবং যুদ্ধের পরিকল্পনা না জানিয়ে তাদের সহায়তা চাওয়াটা বোকামি। এদিকে জার্মানি থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করাও সহজ হবে না, কারণ এতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে এবং নতুন ঘাঁটি তৈরি করা অনেক ব্যয়বহুল। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এবং বার্লিনের এই শীতল যুদ্ধ এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।