কাজ শুরুর পর টেন্ডার, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৯, | ০১:৩১:০২ |

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের কার্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তার কার্যালয় নমক্কল কাবিঙ্গার মালিগাই ভবনে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার জন্য আহূত সাড়ে পাঁচ কোটি রুপির দরপত্রে (টেন্ডার) গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তিন মাসের পূর্ণতা পাওয়া তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অফিস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে নতুন দফতরের সংস্কার ও নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে স্থানান্তরের কাজের জন্য সাড়ে পাঁচ কোটি রুপির একটি দরপত্র আহ্বান করা হলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দাবি, নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস পর এই দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যা সরকারি বিধি ও স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নবগঠিত সরকারের শতদিনের মাথায় এই অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা সি আর কেশবন জানান, স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা টিভিকে সরকার শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের খবরের সূত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কার্যালয় তৈরির কাজে সাড়ে পাঁচ কোটি রুপির দরপত্রে নানা ধরনের অসংগতি ও অনিয়ম স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র একশ দিনের মধ্যে এভাবে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিতর্কে সুর মিলিয়েছে প্রধান বিরোধী দল ডিএমকেও। দলটির বিধায়ক ই ভি ভেলু এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, অফিস পরিবর্তন করা মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এতে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এমনকি যে ভবনটিতে দফতর স্থানান্তর করা হচ্ছে, সেটি প্রয়াত করুণানিধি নির্মাণ করেছিলেন বলে তারা একদিক থেকে আনন্দিত। কিন্তু ভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে দরপত্রের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবং এটি অনলাইনে আহ্বান করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কাজ শুরু করার পর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে খবরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তাই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতার দাবি করা সরকারের উচিত জনগণের কাছে অবিলম্বে বিষয়টির স্পষ্টীকরণ দেওয়া।

তবে সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছে ক্ষমতাসীন টিভিকে। তামিলনাড়ু সরকারের মন্ত্রী আধাভ অর্জুন এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দেন, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিশ্বাস করেন যে তার সহকর্মীদেরও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার পরিবেশ থাকা উচিত। বর্তমানে তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাত্র একশ বর্গফুটেরও কম জায়গায় গাদাগাদি করে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাই একটি সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে কার্যালয় স্থানান্তরের এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় অত্যন্ত সাধারণ ও নমনীয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং নির্বাচনী প্রচারের সময়ও তিনি সাধারণ হোটেল বা গাড়িতে বিশ্রাম নিতে দ্বিধা করেন না।

মন্ত্রী আধাভ অর্জুন আরও বলেন, তামিলনাড়ুর সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি এবং জে জয়ললিতা উভয়েই নতুন সচিবালয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বর্তমান প্রশাসনিক ভবনটি ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবকাঠামোগত সংস্কার আবশ্যক হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছ রাখা হবে, কোনো বেনামি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে না এবং সরকারি তহবিলের কোনো অপচয় বা অপব্যবহার হতে দেওয়া হবে না।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..