অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ ফেলে পালাল স্বামী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৭, | ১৮:৩২:১২ |

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, গতকাল রবিবার ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আফরোজার মৃত্যু হয়। নিহত আফরোজা বেগম নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তাঁরা গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। আফরোজাকে তাঁর স্বামী প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, গত শনিবার রাতে আফরোজা তাঁর বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এর কিছুক্ষণ পরই ফোন কেটে যায়।

পরে স্বামী দীন ইসলাম তাঁর শ্বশুরকে ফোন করে দাবি করেন, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য টাকা পাঠাতে হবে। তবে টাকা পাঠাতে দেরি হলে তিনি জানান, আফরোজা মারা গেছেন।

সোমবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার লাশ নিথক গ্রামে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়রা জানান, অচেনা একটি গাড়ি থেকে আফরোজার মরদেহ টেনেহিঁচড়ে উঠানে নামিয়ে রেখেই দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, আফরোজাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তাঁর স্বামী কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। লাশের পুরো শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা চেয়েছিল। তা না দেওয়ায় লাশ এনে উঠানে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে গেছে। আমরা এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। লাশের সঙ্গে ঢাকার একটি হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। সেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..