সর্বশেষ :
অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের : তারেক রহমান আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা : প্রধানমন্ত্রী ‘সাউন্ড বাইট’ থেকে ‘মোর জাম্প’- প্রথমদিনে মন্ত্রীরা যা বললেন রমজান উপলক্ষ্যে স্কুল ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকতা থেকে রাজপথ, নয়া সরকারের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হলেন মির্জা ফখরুল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিন বারের এমপি পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানির বর্ণাঢ্য জীবন দেশের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র থেকে পূর্ণমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে, আজ পূর্ণ মন্ত্রী বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউনূস-মোদি বৈঠক এপ্রিলে, এবার কি গলবে সম্পর্কের বরফ?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০২-১১, | ১০:৫২:৫২ |

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটছে৷ সরকারি পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে দুই-একটি বৈঠক হলেও তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি৷ তলব ও পাল্টা তলব, বিবৃতি ও পাল্টা বিবৃতি চলছেই৷ তাহলে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ কী?

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, অবশেষে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷ আর সেটা হতে পারে আগামী এপ্রিলে ব্যাংককে৷ ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদি দুজনই যোগ দিচ্ছেন৷ ওই সময় তাদের দুজনের মধ্যে আলাদা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে৷ আর দায়িত্ব নেওয়ার পর আগস্টে দুজনের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে৷

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আবারো দেখা হচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে৷ আর সেটা হতে পারে ওমানের রাজধানী মাস্কটে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে৷

এর আগেও অবশ্য তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক হয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে৷ ওটা ছিল ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক৷ পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তখন দুই দেশ পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়৷

অন্যদিকে বাংলাদেশে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ডিসেম্বরে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকা আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি৷ ১২ ঘণ্টার ওই বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের পরারাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন৷

এছাড়া আগামী ১৭-২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের নয়া দিল্লিতে চার দিনের ৫৫তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হবে ৷

তাহলে সমস্যা কোথায়?

বলতে গেলে ৫ আগস্টের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়৷ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিং-এ বাংলাদেশ ইস্যু থাকছেই৷ আর বাংলাদেশেও তাই৷ আর আছে ভারতীয় মিডিয়ার ‘অপপ্রচার’৷ সেটা বাংলাদেশি মিডিয়ায়ও কমবেশি হচ্ছে৷ সীমান্ত সংকট আরও বেড়েছে৷ ভারতের রফতানি বাংলাদেশে কমে গেছে৷ আর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা বলতে গেলে প্রায় বন্ধ৷ বাংলাদেশি বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে সমস্যা হচ্ছে তার মূল কারণ হলো ইউনূস সরকারকে ‘গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে নিতে চাইছে না ভারত’৷ আর বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নিয়ে তাদের মতো করে তারা ন্যারেটিভ তৈরি করছে৷ সেটা ভারতীয় মিডিয়াও করছে৷ তারা বাংলাদেশকে সমমর্যাদার প্রতিবেশী মনে করছে না৷ এইসবের বাইরে শেখ হাসিনা একটা বড় ইস্যু৷ বাংলাদেশ মনে করে ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ঠিক করেনি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির বলেন, ‘ভারত তো বলেই দিয়েছে যা তারা বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে৷ সেই সরকারের সঙ্গেই তারা কাজ করতে চায়৷ এখান থেকেই বোঝা যায় অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা কী চোখে দেখে৷ এটা তো এই দেশের জন্য সম্মানের নয়৷ শেখ হাসিনা একটা উপাদান৷ এটা ছাড়াও ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা-এইসব ব্যাপারে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত ন্যারেটিভটাই পরিবর্তন করে দিতে চায়৷ আমাদের মধ্যে এখন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে ভারত চায় না৷ পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং অস্বস্তির কারণেই সম্পর্কটা স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে আমার ধারণা’ বলেন তিনি৷

এম হুমায়ূন কবির বলেন, ‘তারা কোনোভাবেই বাস্তবতাকে মানতে চাইছে না৷ আহলে এখন যারা বাংলাদেশে ক্ষমতায় আছে তারা কারা? এটা তারা না বুঝলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না৷ আগে তারা যা চাইতো তাই পেত৷ এখন তো আর পায় না।’

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আমরা নির্ধারণ করব৷ আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় আমরা কীভাবে দেখব কীভাবে সমাধান করব সেটা আমাদের বিষয়৷ ভারতকে এটা বুঝতে হবে৷ তারা বাংলাদেশের সরকারকে অনির্বাচিত সরকার বলছে৷ কিন্তু ভারত তো অনির্বাচিত আফগান সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে৷ তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে৷ এই চিন্তা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে৷’

আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে না৷ এটই বড় সমস্যা৷ তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সব সময়ই মন্তব্য করে৷ এটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা৷ আর তারা যে বলছে বাংলাদেশে একটি নির্বাচত সরকার এলে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে – এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল৷ কারণ বাংলাদেশে এখন যে সরকার আছে তারা নির্বচিতের চেয়েও বড়৷ তারা সবার সম্মতি ও পছন্দের সরকার৷’

বৈঠকে সমাধান?

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অথবা একদম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে যে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক ভালো হয়ে যাবে এমন আশা করেন না কেউই৷ তারপর বৈঠক হওয়া ভালো, তাতে যদি অস্বস্তি কিছুটা কাটে৷ ‘আর আমার মনে হয় সম্পর্ক সাবলীল হতে পারে যদি প্রফেসর ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে কোনো বৈঠক হয়৷ আসলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা উপদেষ্টা, সচিব পর্যায়ে বৈঠকে এর কোনো সমাধান আসবে বলে আমার মনে হয় না৷ এই বৈঠকগুলো আসলে আনুষ্ঠানিকতা মাত্র’ বলেন এম হুমায়ূন কবির ৷

আর অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, ‘উপদেষ্টা বা প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক হলে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে৷ স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে৷ তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো ভারত যে চোখে বাংলাদেশকে দেখে, যেভাবে ট্রিট করে– এটা তাদের বদলাতে হবে৷ পরিবর্তনটা বুঝতে মেনে নিতে হবে৷ আন্তরিক হতে হবে৷ বাংলাদেশকে তারা ছোট চোখে দেখে৷ সেটা হলে তো হবে না৷’

অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, ‘দুই দেশের মন্ত্রী বা শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে৷ কিন্তু তাতেও আমি মনে করি সময় লাগবে৷ কারণ সম্পর্কের দূরত্ব অনেক বেড়েছে৷ সবার আগে আমি মনে করি দুই দেশের মিডিয়াকেই তাদের লাগাম টানতে হবে৷ বিশেষ করে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার করছে৷ বাংলাদেশেও যে একদম হচ্ছে না তা কিন্তু নয়৷ তবে ভারতের তুলনায় অনেক কম৷

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...