✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৬, | ০১:২৯:৩৯ |বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অংশ হিসেবে বর্তমানে ভারত অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ম্যাচে শাই হোপের সেঞ্চুরির সুবাদে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি এখন ২-২ সমতায় রয়েছে। তবে এই সফরের আর্থিক দিকটি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সিরিজটি ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হলেও, সম্প্রচার স্বত্ব থেকে অর্জিত আয়ের কোনো অংশই পাচ্ছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডার্ক ডেরিং আধুনিক দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট রাজস্ব মডেলে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
‘দ্য স্কুপ’ পডকাস্টে কথা বলার সময় ডেরিং ব্যাখ্যা করেন, কয়েক দশক আগে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য আর্থিক সংকট তৈরি করেছে। বর্তমান ব্যবস্থায়, ভারতের বিশাল জনসংখ্যা ও সম্প্রচার বাজারের কারণে এই সিরিজ থেকে প্রচুর আয় হলেও, সফরকারী দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই আয়ের কোনো ভাগ পায় না।এই ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট কিছুই পায় না, কারণ সিরিজটি ভারতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে সিরিজ থেকে ভারতে ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে, তা থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের কোনো রাজস্ব আসে না।
তিনি আরও বলেন, এটি কীভাবে ঘটল তা বুঝতে হলে আপনাকে ১৯৯৭ সালে ফিরে যেতে হবে। আমি সৌভাগ্যবান অথবা দুর্ভাগ্যবান, সেই সময়ে আমি উপস্থিত ছিলাম, যখন আইসিসি সদস্য দেশগুলো বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোর ভিত্তি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তার আগ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দল ছিল এবং সবাই চাইত আমরা তাদের দেশে গিয়ে খেলি। আমরা সফর বাবদ যে ফি পেতাম, তা অনেক সময় ক্যারিবিয়ানে কোনো সিরিজ আয়োজন করে যে আয় হতো, তার চেয়েও বেশি ছিল।
নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, আয়োজক দেশগুলো তাদের সীমানার ভেতরে সম্প্রচার থেকে অর্জিত রাজস্বের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। এই ব্যবস্থার ফলে বড় জনসংখ্যা ও বড় সম্প্রচার বাজার থাকা দেশগুলোর সঙ্গে ছোট অভ্যন্তরীণ দর্শকসংখ্যাবিশিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে এক বিশাল বৈষম্য তৈরি হয়।
ডেরিং বলেন, এর মানে হলো ভারত দেড়শ কোটি মানুষের জনসংখ্যা থেকে অর্জিত রাজস্ব নিজেদের কাছে রাখতে পারে; অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কেবল অ্যান্টিগা (প্রায় ১ লাখ জনসংখ্যা) বা সেন্ট কিটস (প্রায় ৩০ হাজার জনসংখ্যা)-এর মতো ছোট জায়গা থেকে যা আয় হয়, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ডেরিং ১৯৯৭ সালের সেই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। ভোটাভুটির ফলাফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একা হয়ে পড়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আর্থিক প্রেক্ষাপটকেই পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, এটি ছিল স্পষ্টতই অন্যায্য। আইসিসি সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটিতে আমরা ৯-১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলাম। সেই সময়ে আমি বলেছিলাম, এই সিদ্ধান্তটি কার্যত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ধ্বংস ডেকে এনেছে, কারণ এটি আমাদের আয়ের প্রধান উৎসটিকে কেড়ে নিয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ওপর আর্থিক চাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাদের সব ধরনের প্রতিযোগিতা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিচালনার জন্য বোর্ডকে প্রতি বছর ২ কোটি থেকে ২ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলারের ঘাটতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তহবিলের এই ঘাটতির কারণে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের চুক্তিতে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক (রিটেইনার ফি) ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া। ভারত সফর শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করার কথা ছিল।