✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ১৩:৩৭:৩৯ |বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিংয়ে কেউ একজন ইনিংস ধরে রাখার সুযোগ পাননি বলে মনে করেন ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ঝুঁকি কম নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রান করার জন্য হোপকে কৃতিত্ব দিতে হবে। হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হোপের দ্বিতীয় শতকে ভর করে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হোপের ব্যাটিং নিয়ে স্যামসন বলেন, ‘সে খুব ভালো খেলছে। সে যা করছে, তার প্রতি আমাদের সম্মান দেখাতে হবে। দারুণ সব ক্রিকেটীয় শট খেলছে, খুব বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে না। একই সঙ্গে বোলারদেরও সম্মান করছে। যেভাবে সে ব্যাটিং করছে, তার জন্য কৃতিত্ব দিতেই হবে। প্রতিটি ম্যাচেই তাকে কীভাবে সামলাতে হবে, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই সতর্ক।’
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন স্যামসন নিজেই। প্রথম চার ওভারে বেশির ভাগ বল খেলে মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারের শুরুতেই বিদায় নেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
নিজের ইনিংস নিয়ে স্যামসন বলেন, ‘এমন বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে দ্বিতীয়বার ভাবার সুযোগ থাকে না। নিজের স্বাভাবিক খেলার ওপর এবং বড় শট খেলার সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। আমি আসলে সেটাই করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইনিংসটি আমি খুব উপভোগ করেছি। তবে জয়ের অংশ হতে পারলে আরও ভালো লাগত।’
স্যামসন দ্রুত রান তুললেও অন্য প্রান্তে সংগ্রাম করেছেন তার উদ্বোধনী সঙ্গী অভিষেক শর্মা। ২৪ বল খেলে ২৯ রান করেন তিনি। ২০টির বেশি বল খেলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইনিংসগুলোর মধ্যে এটিই তার সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেটের ইনিংস। চলতি বছরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ঈশান কিষানও দ্রুত আউট হয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
তবে সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্যামসন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ঈশান কিষান ও অভিষেক শর্মা বিশ্বের সেরা দুই ওপেনার। তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। একটি ম্যাচ খারাপ যেতেই পারে। আগের ম্যাচেই অভিষেক ৬৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছে। ঈশানও নিয়মিত অনেক রান করছে। তাই একটি ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া কোনো সমস্যা নয়।’
১২তম ওভারে ১৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। সেখান থেকে তিলক বর্মা ও নীতিশ রেড্ডির ৭০ রানের জুটি ম্যাচে ফেরার আশা জাগায়।
স্যামসন বলেন, ‘তিলক ও রেড্ডি যখন ব্যাট করছিল, তখনো আমরা ম্যাচে ছিলাম। তারা চাপের মুহূর্ত সামলে খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। আমার মনে হয়, তখন পর্যন্ত আমরা লক্ষ্য তাড়ার লড়াইয়ে ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ উইকেট হারানোর পরও দুই তরুণ ক্রিকেটার যেভাবে চাপ সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে লড়াই করেছে, তা দারুণ ব্যাপার। তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেছিল।’
তবে ১৭তম ওভারের শেষ দিকে তিলক বর্মা এবং ১৯তম ওভারে নীতিশ রেড্ডি আউট হলে ভারতের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানে হারে স্বাগতিকেরা। এতে সিরিজ গড়িয়েছে নির্ধারণী ম্যাচে।
আগামী শনিবার, ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ। স্যামসনের চোখ এখন সেই লড়াইয়ে।
তিনি বলেন, ‘এখন সবকিছু বেঙ্গালুরুর ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে। আমরা খুব উজ্জীবিত। মাঠে নেমে তাদের বিপক্ষে লড়াই করতে চাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দারুণ ক্রিকেট খেলছে। আমাদের নিজেদের মাঠে এসে তারা যেভাবে দুটি ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। এখন এটি ফাইনাল। দেখা যাক, কী হয়।’