✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৪, | ১৪:২৬:৫১ |বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণ ও সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। এলএইচবি ধরনের এসব কোচ বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়।
রাইটস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে সাত ধরনের কোচের মধ্যে চার ধরনের মোট ১৮টি কোচ। এর মধ্যে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার রয়েছে। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডের জন্য পৃথক কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রেল খাতে আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান রাইটস জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন, ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং একাধিক ডিজেলচালিত ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে। নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত ভারতের এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
বাংলাদেশে ভারতীয় কোচ সরবরাহের ধারাবাহিকতা
রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় ভারতের ওই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল।
আগের সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন করে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের ক্রয়াদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী, সাত ধরনের কোচ তৈরি করে সরবরাহ করা হবে। নতুন চালানের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনাগত প্রয়োজন এবং যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোচগুলোর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। এসব উন্নয়নের মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এ ধরনের এলএইচবি কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাত্রীসুবিধায় নতুন সংযোজন
নতুন কোচগুলোতে বিশেষভাবে নকশা করা হেলানো যায় এমন আসন রাখা হয়েছে। আসনগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা রয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন কোণে আসন হেলিয়ে বসতে পারবেন।
যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচে পাখা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি সংকেত দেওয়ার সুবিধা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য পৃথক কক্ষ ও প্রার্থনার জন্য একটি কক্ষের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলানোর বিষয়টি মাথায় রেখে ছাদ আরও মজবুত করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে কোচের ছাদে মানুষ উঠে ভ্রমণ করলেও যাতে তা বাড়তি ওজন বহন করতে পারে, সেই বিষয়টি নকশায় বিবেচনা করা হয়েছে।
সংঘর্ষে নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবর্তন
নতুন কোচগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়ানোর উপযোগী কাঠামোগত নকশা। কোচগুলো ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত নিরাপত্তার মান পূরণে কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোচগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তৈরি কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।
নতুন এই চালানের মধ্য দিয়ে ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলো। কোচগুলোতে যাত্রীসুবিধা, নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের পরিচালনাগত চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।