✕

সর্বশেষ :
দিনে ৮ ঘণ্টা এসি চালালে মাসে কত টাকা বিল আসবে? বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকিতে এয়ার ফ্রান্স আট মাসে চাকরি নিয়ে বিদেশ পাড়ি সাড়ে ৪ লাখ জনের টিকিট নিয়ে সতর্কবার্তা, যাত্রীরা যা করলে দায় নেবে না রেলওয়ে একাদশে ভর্তি নিয়ে নতুন নির্দেশনা তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ স্কুলে ভর্তি: শ্রেণিভেদে কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা সোমবার দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকিতে এয়ার ফ্রান্স

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৪, | ০২:০৮:৩২ |
জাতীয়তার ভিত্তিতে ইসরায়েলে যাতায়াতকারী উড়োজাহাজের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। দেশটির নির্দেশনা মেনে চলার কথা জানিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। তবে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ ৩১টি দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া এই পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফরাসি আইন অনুযায়ী, এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়তে পারে এয়ারলাইনটি।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম এবং ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের তালিকায় ৩১টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাম রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও নাইজার উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্যান্য এয়ারলাইনের মতো তাদেরও সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশ ও পরিচালনা-সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তেল আবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবহিত করা হয়েছে।

কী কারণে জারি হলো এই নির্দেশনা?
ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর তথ্যমতে, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি এয়ারলাইনগুলোকে নতুন নির্দেশনার বিষয়ে জানায়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুরা এমন কোনো দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিক হতে পারবেন না, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনার পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফ্লাইটটির ওমানি কো-পাইলট ভারতীয় পাইলটকে আক্রমণ করেছিলেন। আহত পাইলট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওই ঘটনার সঙ্গে নতুন বিধিনিষেধের সম্পর্ক এবং নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা
ইসরায়েলের নতুন নির্দেশনার প্রভাব দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনাকারী একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের ওপর পড়তে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আল-জাজিরা ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি।

চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম এয়ারলাইন স্মার্টউইংস জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়েছে। তবে সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে তাদের কার্যক্রম, ক্রু ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে ফেরত আসা ফ্লাইটে কর্মী মোতায়েনের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটি নির্দেশনাটি পেয়েছে কি না কিংবা তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত করেনি।

এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের উদ্দেশে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপিতে নির্দেশনা অমান্য করলে সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে আল-জাজিরা স্মারকলিপিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বৈষম্যের অভিযোগে আইনি জটিলতার আশঙ্কা
প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিনের মতে, ইসরায়েলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এয়ার ফ্রান্স ফ্রান্সের শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে পড়তে পারে।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের সামগ্রিকভাবে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা বৈষম্যমূলক পক্ষপাতের শামিল হতে পারে। তাঁর মতে, জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের নির্দিষ্ট ফ্লাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে তা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


গ্যান্ডিন ফরাসি শ্রম আইনের এল১১৩২-১ ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রকৃত বা অনুমিত জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিষিদ্ধ। দায়িত্ব বণ্টন, বেতন কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশই আরব বা মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ পরোক্ষভাবে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও বৈষম্যের প্রশ্ন তুলতে পারে।

নিরাপত্তার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?
গ্যান্ডিনের মতে, কোনো বিদেশি সরকারের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্মীদের প্রতি বৈষম্য না করার দায়িত্ব এয়ারলাইনের রয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মীদের ভিন্নভাবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে পেশাগত প্রয়োজনীয়তা ও বৈধ উদ্দেশ্যের মতো আইনি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তবে জাতীয়তা নিজে থেকেই বিমান পরিচালনার সক্ষমতা নির্ধারণ করে না।

আইনজীবীটির দাবি, এয়ার ফ্রান্সের ইসরায়েলি বাজারে কার্যক্রম বজায় রাখার বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকলেও তা কর্মীদের প্রতি বৈষম্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নতুন বিমান চলাচলসংক্রান্ত নির্দেশনা নিরাপত্তার প্রশ্নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কর্মী ব্যবস্থাপনা, জাতীয়তাভিত্তিক বৈষম্য এবং শ্রমিকের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে নির্দেশনার সুনির্দিষ্ট পরিধি এবং এর সম্ভাব্য আইনি পরিণতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..