✕

সর্বশেষ :
দিনে ৮ ঘণ্টা এসি চালালে মাসে কত টাকা বিল আসবে? বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকিতে এয়ার ফ্রান্স আট মাসে চাকরি নিয়ে বিদেশ পাড়ি সাড়ে ৪ লাখ জনের টিকিট নিয়ে সতর্কবার্তা, যাত্রীরা যা করলে দায় নেবে না রেলওয়ে একাদশে ভর্তি নিয়ে নতুন নির্দেশনা তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ স্কুলে ভর্তি: শ্রেণিভেদে কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা সোমবার দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী

‘ব্লাড মুন’ দেখল বিশ্বের বহু দেশ, বাংলাদেশে কেন দেখা গেল না

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৯, | ১৮:৪৬:৪২ |

সম্প্রতি রাতের আকাশে বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। ২৭–২৮ আগস্টের আংশিক চন্দ্রগ্রহণে চাঁদের ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে যায়। আলোয় ছিল কেবল একটি সরু অংশ। ফলে চাঁদের বড় অংশ তামাটে-লাল আভা ধারণ করে, যা অনেকটা ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তচাঁদের মতো দেখায়।

এটি ছিল আগস্টের পূর্ণিমার চাঁদ, যাকে ‘স্টার্জন মুন’ বলা হয়। গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের প্রায় পুরোটা পৃথিবীর গাঢ় অভ্যন্তরীণ ছায়া বা প্রচ্ছায়ার মধ্যে চলে যায়। সরাসরি সূর্যের আলো পায় কেবল চাঁদের সামান্য একটি অংশ।

চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে। তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। এবার সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ পুরোপুরি সরলরেখায় না থাকায় চাঁদের একটি অংশই পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় প্রবেশ করে। তাই এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ না হয়ে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়েছে।

কেন তামাটে-লাল দেখায় চাঁদ?
চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়নি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে সূর্যের কিছু আলো ছেঁকে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। নীল ও বেগুনি আলোর তুলনায় লাল ও কমলা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় সেগুলো বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে চাঁদে পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই গ্রহণের সময় চাঁদে লালচে বা কমলা আভা দেখা যায়।

২৭ আগস্ট রাত ৯টা ২৩ মিনিটে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ায় প্রবেশের মধ্য দিয়ে গ্রহণ শুরু হয়। রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে শুরু হয় আংশিক গ্রহণ। ২৮ আগস্ট রাত ১২টা ১২ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন চাঁদের ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ছিল। রাত ১টা ৫১ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শেষ হয় এবং ভোর ৩টা ১ মিনিটে পুরো গ্রহণ শেষ হয়।

বাংলাদেশে কেন দেখা গেল না?
এই চন্দ্রগ্রহণ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা গেছে। তবে অঞ্চলভেদে দৃশ্যমানতার সময় ও মান ভিন্ন ছিল।

বাংলাদেশে এই গ্রহণ দেখা যায়নি। একই কারণে ভারতের অধিকাংশ এলাকাতেও এটি দৃশ্যমান ছিল না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে গ্রহণটি দিনের বেলায় ঘটেছিল।

বাংলাদেশে পরের চন্দ্রগ্রহণ কবে?
আকাশপ্রেমীদের অবশ্য বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। তবে সেটি হবে উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ। ঢাকায় স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ১২ মিনিটে গ্রহণ শুরু হবে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে। শেষ হবে সকাল ৭টা ১৩ মিনিটে।

তবে উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণে পৃথিবীর মূল গাঢ় ছায়া চাঁদকে ঢেকে দেয় না। ফলে চাঁদের উজ্জ্বলতা সামান্য কমে যায় এবং খালি চোখে পরিবর্তনটি বোঝা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।

এরপর বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে ৬–৭ জুলাই ২০২৮। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৯ পর্যন্ত দেখা যাবে একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..