✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৯, | ১১:৩২:৩৫ |আমেরিকার অনুরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার সময়সীমা এবং পরিধি ছাঁটাই করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, মার্কিন প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড ২০২৬’ যৌথ সামরিক অনুশীলনের মেয়াদ ছয় দিন কমানো হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ আগস্ট মহড়াটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আগামী ২১ আগস্টের মধ্যেই সমাপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সিউল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌথ সামরিক অনুশীলন কমিয়ে আনার এই আকস্মিক নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং এই ধরনের বড় ধরনের মহড়া পিয়ংইয়ংয়ের জন্য ভুল ও শত্রুতাপূর্ণ বার্তা পাঠায়। সেই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিশাল অঙ্কের সামরিক ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রুথ সোশ্যালে জানান, এই ব্যয়বহুল মহড়ার বেশিরভাগ অর্থই ওয়াশিংটনকে বহন করতে হয়।
শুধু সামরিক ব্যয় বা কূটনীতিই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেও এই সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ৩৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইরান বিষয়ক মার্কিন কূটনৈতিক বা সামরিক অভিযানে সহায়তার প্রস্তাবে দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেছে। সিউলের এই ‘না’ সূচক জবাবকেই মহড়ার পরিধি কমানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
এদিকে সিউলে এক সংসদীয় শুনানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন স্বীকার করেছেন, ওয়াশিংটন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব আসার আগে দক্ষিণ কোরিয়া বা আমেরিকার সামরিক কর্মকর্তাদের কারও কাছেই মহড়া কাটছাঁটের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আগাম পূর্বাভাস ছিল না। সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত করার পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজের ক্ষেত্র ও মাত্রা আংশিকভাবে কমিয়ে আনারও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার বিশদ বিবরণ বর্তমানে দুই দেশের সামরিক সমন্বয়কারীদের মধ্যে আলোচনাধীন রয়েছে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে আরও জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও মুখোমুখি বৈঠকে বসার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলন উপলক্ষে এশিয়ায় তাঁর আসন্ন সফরের সময় পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
যদিও এই মহড়া শুরুর আগে ওয়াশিংটন ও সিউলের সেনা কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা নিয়ে এই অনুশীলনের ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের আকস্মিক এই পদক্ষেপে সিউল ও ওয়াশিংটনের কয়েক দশকের ঐতিহাসিক সামরিক সুরক্ষার প্রতিরক্ষা কৌশল নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল।
সূত্র: বিবিসি