✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০১, | ১১:৪৩:৪৪ |মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, অধিকার আর মর্যাদার জয়গান গাওয়ার এক ঐতিহাসিক দিন। এ দিনটি শুধু দাবি আদায়ের অঙ্গীকারই মনে করিয়ে দেয় না, বরং মানুষের শ্রমের মর্যাদা ও সংগ্রামের গল্পও তুলে ধরে নতুনভাবে। সংস্কৃতির নানা শাখার মতো সিনেমাতেও এর প্রভাব গভীর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, নানা ভাষায় নির্মিত হয়েছে শ্রমিক শ্রেণির জীবন, লড়াই ও স্বপ্নকে ঘিরে অনেক সিনেমা। সেসব সিনেমা কেবল নান্দনিকতার খোরাকই জোগায় না, দর্শকের মনে তোলে তীক্ষ্ণ কিছু প্রশ্ন। এই ফিচারে থাকছে এমন তিনটি সিনেমার কথা, যেগুলো দেখলে বিনোদনের পাশাপাশি ভাবনার নতুন দুয়ারও খুলে যায়।
মতেওয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহর মেইটওয়ান। ১৯২০ সালে সেই শহরের এক কয়লাখনি নিয়ে এ সিনেমার কাহিনি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জন সেইলেস। এতে অভিনয় করেছেন ক্রিস কুপার, জেমস আর্ল জোনস, ম্যারি ম্যাকডোনাল প্রমুখ। এটি মুক্তি পায় ১৯৮৭ সালে। সেরা চিত্রনাট্যের জন্য অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল সিনেমাটি। এ সিনেমার কাহিনিতে দেখা যায়, কয়লাখনির শ্রমিকরা ইউনিয়নে যূথবদ্ধ হয়ে ডাক দেয় ধর্মঘটের। তাদের দাবি ছিল কাজের পরিবেশ উন্নত করা আর মজুরি বাড়ানো। কয়লাখনির মালিক এ অঞ্চলের একমাত্র মানুষ, যে মানুষকে কাজ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সে তো কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না। তখন সে ধর্মঘট ভাঙার জন্য নিয়োগ করল ইতালীয় ও কৃষ্ণাঙ্গ কিছুসংখ্যক শ্রমিককে। বড় শহর থেকে আসা তুখোড় ট্রেড ইউনিয়নিস্ট জো কেনেহ্যান এই ইতালীয় আর কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের বোঝাতে সক্ষম হয় যে, এ লড়াই সবার বাঁচার লড়াই। এরপর কাহিনি এগোতে থাকে চমকপ্রদভাবে।
নরমা রে
পোশাককর্মী থেকে ইউনিয়নের নেতা হয়ে যাওয়া ক্রিস্টাল লি সুটনের জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নরমা রে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন মার্টিন রিট। এতে নরমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্যালি ফিল্ড। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারজয়ী হন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে। গল্পে দেখা যায়, পরিবারের অন্য সদস্যদের মতোই নরমা রে কাজ করে এই অঞ্চলের পোশাক কারখানায়। এখানে কাজ করাই যেন তাদের ভাগ্যলিখন। সারা দিন ঘাম ঝরানোর পর যে মজুরি পায়, তা নিতান্তই কম। আর কাজের পরিবেশও জঘন্য। একদিন শ্রমিকনেতা রুবেনের বক্তৃতায় মোহিত হয়ে পড়ে নরমা রে। সে যোগ দেয় শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনে। এতে নাখোশ হয় তার পরিবার। বেশি অখুশি হয় তার প্রেমিক। পদে পদে আসতে থাকে বাধা। কিন্তু নিজের দাবিতে রে থাকে অটল। এভাবেই এগিয়ে যায় কাহিনি।
অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট
১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অন দ্য ওয়াটারফ্রন্ট সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ইলিয়া কাজান। এ সিনেমার মূল আকর্ষণ মার্লোন ব্রান্ডোর অসাধারণ অভিনয়। এতে আরও অভিনয় করেছেন কার্ল ম্যালডেন, লি জে কব। সিনেমাটি অস্কারে ১২টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পায়। সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারসহ আটটি পুরস্কার জোটে সিনেমার ভাগ্যে। সমালোচকদের পাশাপাশি দর্শকরাও সিনেমাটিকে দারুণভাবে গ্রহণ করেন। সিনেমার গল্পে দেখা যায়, টেরি ম্যালয় একজন যোদ্ধা হতে চায়। জিতে নিতে চায় পুরস্কার। জনি ফ্রেন্ডলি নামে এক ট্রেড ইউনিয়নিস্টের জন্য কাজ করে সে। মোটামুটি ভালোই চলছিল দিন। কিন্তু একদিন হঠাৎ টেরির মাথায় বাজ পড়ে। সে নিজ চোখে দেখে ফেলে, জনির দুই ষণ্ডা মাস্তান খুন করছে একজনকে। যাকে খুন করা হলো, তার বোনের সঙ্গে দেখা হয় টেরির। বুঝতে পারে, এ হত্যার দায় শোধ করতে হবে। কীভাবে আদালতে বিষয়টি নিয়ে লড়তে হবে, সেই পরামর্শ দেয় ফাদার ব্যারি। কীভাবে ইউনিয়ন বাজি করা মাস্তানদের রুখে দিতে হয়, সেটাও উঠে আসে সিনেমায়।