নিশান তাদের বহুল জনপ্রিয় মডেল ‘রোগ’-এর পরবর্তী প্রজন্মের গাড়ি উন্মোচন করেছে। ২০২৭ মডেলের এই গাড়ির মাধ্যমে নিশান তাদের বিশেষ হাইব্রিড প্রযুক্তি ‘ই-পাওয়ার’ উত্তর আমেরিকার বাজারে নিয়ে আসছে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি প্লাগ-ইন বা সরাসরি বৈদ্যুতিক চার্জ ছাড়া চালককে পুরোপুরি ইলেকট্রিক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা দেবে।
কম্প্যাক্ট এসইউভি বিভাগে নিশান রোগ দীর্ঘ সময় ধরে টয়োটা র্যাভফোর ও হোন্ডা সি-আরভির মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আসছে। ২০০০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি নিশান রোগ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ গাড়ি। এই বিশাল সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে ২০২৭ মডেলের গাড়িটিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে নিশান।
নিশানের এই ই-পাওয়ার প্রযুক্তি সাধারণ হাইব্রিড সিস্টেমের চেয়ে কিছুটা আলাদা। এতে থাকা ইঞ্জিনটি সরাসরি চাকা ঘোরায় না। বরং এটি কেবল একটি জেনারেটর হিসেবে ব্যাটারি চার্জ করে। গাড়িটি চলে মূলত ইলেকট্রিক মোটরের শক্তিতে। ফলে চালক কোনো চার্জিং স্টেশনে না গিয়েও একটি পিওর ইলেকট্রিক গাড়ির মতো মসৃণ ও দ্রুতগতির অভিজ্ঞতা পাবেন।
নিশানের এই কৌশল মূলত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির এক দারুণ সমন্বয়। এর আগে শেভ্রোলে ভোল্ট এবং বর্তমানে ফোর্ড ও র্যামের মতো কোম্পানিগুলোও এই একই ঘরানার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। নিশান গত এক দশকে জাপান ও ইউরোপের বাজারে প্রায় ২০ লাখ ই-পাওয়ার প্রযুক্তির গাড়ি বিক্রি করেছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা তারা উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।
রোগ-এর পাশাপাশি নিশান তাদের জনপ্রিয় ‘এক্সটেরা’ ব্র্যান্ডটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৮ সালের শেষ দিকে এই শক্তিশালী এসইউভি গাড়িটি বাজারে আসার কথা রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হবে এবং বড় মাপের পিকআপ ও এসইউভি পরিবারের অংশ হিসেবে বাজারে আসবে।
নিশান আমেরিকার জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট পঞ্জ পান্ডিকুথিরা বলেন, ‘রোগ’ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নতুন ই-পাওয়ার প্রযুক্তি এসইউভি গ্রাহকদের ড্রাইভিং অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। গাড়ি দুটি বাজারে আসার আগে এর দাম ও অন্যান্য কারিগরি তথ্য বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে নিশান।
এ জাতীয় আরো খবর..