✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২১, | ১৬:২০:৫৩ |কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের পাঁচটি জেলা থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নওগাঁ, কক্সবাজার, খুলনা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে এক নারী ও নবজাতকের মরদেহ। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তিন যুবক এবং খুলনা ও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।
নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়া মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রি করার দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।
এবার কক্সবাজারে ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা
কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপকূলীয় বাহারছড়া উত্তর শীলখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর এবং রুহুল আমিনের ছেলে রবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মোর্শেদ আলম নামের এক সন্ত্রাসী রবি আলমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে মোর্শেদ আলম তার ভাই মুজিবুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় শামলাপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, নুরুল বশরকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গোপন আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই স্থান থেকে পুলিশ রবি আলমের মরদেহ উদ্ধার করে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, মোর্শেদ আলম গ্রুপ ও অজ্ঞাত আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মোর্শেদ আলম তার আপন ভাই মুজিবুর রহমান, চাচাতো ভাই রবি আলম এবং নুরুল বশরকে গোপন আস্তানায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার মূল রহস্য মোর্শেদ আলমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, নিহতরা অপহরণ চক্রের সদস্য হতে পারে এবং কোনো ভিকটিম কৌশলে পালানোর সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস ও টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত বলেন, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নদীর পাশে অর্ধগলিত নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অর্ধগলিত অজ্ঞাত নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর তীরে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার সময় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া নদীর পাশে দুর্গন্ধ বের হয়। পরে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। পুলিশকে খবর দিলে মাটি খুঁড়ে নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি নারীকে বের করার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় ৭-৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। মৃত্যুর সময় নবজাতক পেটে ছিল। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে নিরালার ৭ নম্বর রোডের এফ-৮৫ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
নিহতের নাম উৎস রায়। তিনি দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা কনক কান্তি রায়ের ছেলে এবং নগরীর নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই হতাশা থেকেই তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নদীর পাশে মিলল অটোভ্যান চালকের মরদেহ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদীর পাশ থেকে এক অটোভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সলঙ্গা থানার কালিকাপুর এলাকার নদীর পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নাম- জাহের আলী আকন্দ (৬৫)। তিনি সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত ইনসাফ আলী আকন্দের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফুলজোড় নদীর কালিকাপুর এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহতের ছেলে বাবু জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আমার বাবা অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, পড়ে থাকা লাশটি আমার বাবার।
সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম উদ্দিন বলেন, নিহত ব্যক্তি পেশায় অটোভ্যান চালক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।