রোগ নির্ণয়ে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল করছে এআই চ্যাটবট

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২১, | ১৪:০৬:১৪ |
চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে রোগ নির্ণয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটগুলো ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল করছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওপেনএআই ও ডিপসিকের মতো শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলো রোগীর তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে দ্রুতই ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। ডিজিটাল ডাক্তার হিসেবে চ্যাটবট ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে গবেষণার ফলাফল। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

সমীক্ষাটি চালিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক ‘ম্যাস জেনারেল ব্রিঘাম’ হেলথকেয়ার সিস্টেমের গবেষকরা। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, যখন কোনো রোগের তথ্য অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট থাকে, তখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমগুলো সম্ভাব্য বিভিন্ন রোগের তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়। এর পরিবর্তে এআই চ্যাটবটগুলো দ্রুত একটি মাত্র নির্দিষ্ট উত্তর দিয়ে বসে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল প্রমাণিত হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক আর্য রাও জানান, কোনো রোগীর সব তথ্য যখন পূর্ণাঙ্গভাবে এআইয়ের কাছে দেয়া হয়, তখন এটি সঠিক রোগ নির্ণয়ে বেশ দক্ষ। কিন্তু চিকিৎসার শুরুর দিকে যখন তথ্য কম এবং রোগীর অবস্থা অনিশ্চিত থাকে, তখন এআই সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এটি মূলত ডিজিটাল চিকিৎসক হিসেবে এআই ব্যবহারের ঝুঁকির দিকটিই ফুটিয়ে তুলেছে।

গবেষকরা এ পরীক্ষার জন্য মোট ২১টি জনপ্রিয় এআই মডেল ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রোপিক ও ডিপসিকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের চ্যাটবট অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষকরা ২৯টি ভিন্ন চিকিৎসাগত পরিস্থিতির মাধ্যমে এগুলো পরীক্ষা করেন। সেখানে দেখা গেছে, যখন রোগীর শারীরিক পরীক্ষা বা ল্যাবের রিপোর্ট ছাড়াই প্রাথমিক তথ্য দিয়ে রোগ শনাক্ত করতে বলা হয়, তখন সবক’টি মডেলের ব্যর্থতার হার ছিল ৮০ শতাংশের বেশি। তবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়ার পর এ ব্যর্থতার হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। গুগল ও অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, কোম্পানির চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের সবসময় পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। ওপেনএআইও তাদের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, চ্যাটজিপিটিকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই হয়তো ভবিষ্যতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় সহায়ক হতে পারে, তবে একজন দক্ষ চিকিৎসকের বিকল্প কখনই না। চিকিৎসকরা যেভাবে রোগীর অবস্থা বা শারীরিক পরিবর্তন দেখে রোগ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এআইয়ের পক্ষে তা এখনই সম্ভব নয়। তাই শুধু এআইয়ের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়াটা বিপজ্জনক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..