✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৮, | ১৪:৫৪:১০ |সারাদিন মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হবে এমন ভয় অনেকেরই রয়েছে। বিশেষ করে স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো নিয়ে নানা ধরনের সতর্কবার্তাও ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা ভয় পাওয়ার মতো নয়। স্ক্রিনের নীল আলো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে বা ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে এর মানে এই নয় যে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করলে চোখে কোনো সমস্যা হয় না। দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা কিংবা চোখ ভারী লাগার মতো সমস্যা খুবই সাধারণ। এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা। স্ক্রিন ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলি। ফলে চোখের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ফোকাস ঠিক রাখতে চোখের পেশির ওপর চাপ পড়ে।
নীল আলো কি তাহলে পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়?
চোখের স্থায়ী ক্ষতির ক্ষেত্রে স্ক্রিনের নীল আলো নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। তবে রাতের ঘুমের ক্ষেত্রে এর প্রভাব থাকতে পারে। রাতে দীর্ঘ সময় ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে নীল আলো মেলাটোনিনের নিঃসরণে বাধা দিতে পারে। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হয় এবং ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।
ব্লু-লাইট চশমা কতটা কার্যকর?
ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা চোখের ক্লান্তি বা চোখের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অপথ্যালমোলজিও চোখের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চশমাকে অপরিহার্য মনে করে না। তাই কেউ ব্যবহার করে আরাম পেলে ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু এটিকে চোখের বিশেষ চিকিৎসা বা সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
তাহলে স্ক্রিন দেখলে চোখে অস্বস্তি হয় কেন?
এর পেছনে রয়েছে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে কম পলক ফেলা, চোখের পেশির ওপর চাপ, অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা, ঘরের অপর্যাপ্ত আলো, ভুল দূরত্ব বা স্ক্রিনের অবস্থান এবং ভুল পাওয়ারের চশমা সব মিলিয়ে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে চোখে শুষ্কতা, ক্লান্তি, জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা কিংবা সাময়িকভাবে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কীভাবে চোখের চাপ কমাবেন?
এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ অভ্যাসগুলোর একটি হলো ২০-২০-২০ নিয়ম। প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান। পাশাপাশি কাজের সময় নিয়মিত পলক ফেলুন, পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করুন এবং স্ক্রিন চোখের সমতলের সামান্য নিচে রাখুন। প্রয়োজন হলে চোখ পরীক্ষা করে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করাও জরুরি। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে নিতে পারেন।
সবশেষে, স্ক্রিনের নীল আলো নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে কতক্ষণ এবং কীভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করছেন, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, চোখের অস্বস্তির বড় কারণ নীল আলো নয়; বরং দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস।