৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৮, | ১৪:৪৯:৪৩ |

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার আদালতের এই আদেশের কথা জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তার পরিবার ও দল। বার্তাসংস্থা রয়তার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন ইমরান। তিনি কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

ইমরানের মুখপাত্র নাঈম হায়দার পাঞ্জুথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে থাকার সময় ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে তার পরিবার। গত বছর তার দুই ছেলে বারবার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।

ইমরানের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, কারাগারে থাকার সময় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক আদেশ। আমরা এটি আরও আগেই চেয়েছিলাম। তাহলে তার চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।”

তিনি আরও বলেন, সব চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইমরানকে হাসপাতালে রাখা উচিত।

২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, বেআইনি বিয়ে এবং অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলায় তার কিছু সাজা স্থগিত কিংবা বাতিল হয়েছে, আবার কয়েকটি মামলার আপিল এখনও বিচারাধীন।

ইমরানের সমর্থকদের অভিযোগ, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা ইমরানের কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পিটিআই ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাকিস্তানে সরকার গঠন করেছিল। ক্ষমতা হারানোর পরও দলটির গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে বড় ধরনের জনসমর্থন রয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে পিটিআইকে নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে দলটির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।

ইমরান খান কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার প্রভাব এখনও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। হাসপাতালে স্থানান্তরের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..