✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৭, | ২১:১৫:২৩ |সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসা বাতিলের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। কারণ অনুসন্ধান চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতিমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ভিসা বাতিল হওয়া প্রবাসীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে বাতিল হওয়া ভিসাধারীদের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর ভিসা বাতিলের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে ইউএইতে ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট ও এমপ্লয়মেন্ট ভিসা এবং এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ভিসা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ও স্থবিরতার বিষয়েও সরকার অবগত রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সর্বোচ্চ সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভিসা-সংকট দ্রুত সমাধানে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে দুবাই সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিআইপি ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, প্লট বা অবকাঠামো বরাদ্দে বিশেষ কোটা এবং করছাড়ের সুবিধা দেওয়া হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সরকারি দফতরে ফাইলিং ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল ও দ্রুত সেবা’ নিশ্চিত করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সিআইপি প্রবাসী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইউএইর স্থানীয় আইন-কানুন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলতে সাধারণ প্রবাসীদের সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে সংবেদনশীল বিষয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার করে নেতিবাচক প্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক আচরণে না জড়ানোর বিষয়েও প্রবাসীদের সচেতন করতে কনস্যুলেট ও মিশনের সঙ্গে যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধ করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠাতে সিআইপি ব্যবসায়ীদের তাদের অধীন কর্মীদের উৎসাহিত করতে হবে। খুব শিগগির সর্বজনীন ও স্বচ্ছ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কার্ডের মাধ্যমে দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী ও অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসার সুযোগ এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
প্রবাসীদের বিমানযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকিট সিন্ডিকেট ভেঙে যুক্তিসংগত বিমানভাড়া নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন এয়ারলাইনসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাইয়ের প্রতিনিধিরা ভিসা চালুর বিষয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া, বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা ও মান উন্নয়ন, প্রবাসী কার্ড চালু, সরকারি খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনা, দেশের হাসপাতালে প্রবাসীদের সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা, প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ ছাড়া ড্রাই ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং দেশে বিনিয়োগের মুনাফা বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরেন তারা।
সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।