বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে শাহরুখ, অজয়, টাইগারকে নোটিশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৬, | ১৫:০৫:১৪ |

বিজ্ঞাপন মানেই প্রলোভন। মানুষকে প্রলুব্ধ করতে বিজ্ঞাপনে অনেক সত্য মিথ্যা অনেক বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়। লম্বা হওয়া, মোটা হওয়া, চিকন হওয়া, ফর্সা হওয়ার দাবি করে নানান পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়; যার অনেকগুলো প্রমাণিত সত্য নয়। সাধারণত নানা ক্ষেত্রের সেলিব্রেটিরা বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনের মডেল হন। তবে সেই পণ্যটির গুনাগুন বিচার করার এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতাও  থাকে সেলিব্রেটি মডেলদেরও। 

একটি বিজ্ঞাপনের অংশ নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন বলিউডের তিন সুপারস্টার শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফ। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নিষিদ্ধ ‘পান মশালা’র প্রচারণার অভিযোগে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন এই তিন অভিনেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে।

২০২৪ সালে 'বিমল'-এর পণ্য ’এলাইচি’ প্রচারের জন্য এই তিন অভিনেতা একটি বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। বিমল মূলত পান মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থা। আর মহারাষ্ট্রে পান মশালার উৎপাদন, মজুত, পরিবহন, বিতরণ এবং বিক্রয়ের জন্য নিষিদ্ধ। মহারাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা প্রধান তুকারাম মুন্ডে ১১ আগস্ট এই কারণ দর্শানোর নোটিশটি জারি করেন। সেখানে অভিনেতাদের অবিলম্বে এই প্রচারণায় অংশ নেওয়া বন্ধ করতে এবং তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সমস্ত প্রচারমূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

৯ পৃষ্ঠার ওই নোটিশে মুন্ডে বলেন, ’উক্ত বিজ্ঞাপনটি পরীক্ষা করার পর প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যে, এটি 'বিমল' ব্র্যান্ডের প্রচার করছে, যা মূলত পান মশলার সাথে যুক্ত।’

নোটিশে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে 'বিমল এলাইচি' শব্দটি এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যা ‘বিমল পান মশলা’ ব্র্যান্ডের সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করে বলে মনে হয়।’ 

নোটিশে আরও বলা হয়, এটি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং নিষিদ্ধ পণ্যটির ব্র্যান্ডের পরোক্ষ প্রচার করতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এলাইচি বা অনুরূপ কোনো পণ্যের নামে 'বিমল' ব্র্যান্ডটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য পান মশলা/তামাকজাত পণ্যের সাথে যুক্ত ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখা, জোরদার করা বা গ্রাহকদের আকর্ষণ বাড়ানো হয়; তবে এই ধরণের যোগাযোগ কেবল একটি স্বাধীন পণ্যের বিজ্ঞাপন হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। এটি একটি নিষিদ্ধ পণ্যের পরোক্ষ ছদ্মবেশী প্রচারের শামিল হতে পারে।’

মুন্ডে, যিনি গুটখা এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন বা বিক্রয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন; অভিনেতাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চুক্তিপত্র, ক্যাম্পেইনের বিবরণ, পেমেন্টের নথিপত্র এবং যথাযথ সতর্কতামূলক পদক্ষেপের প্রমাণপত্রের সম্পূর্ণ কপিও দাবি করেছেন।

উল্লিখিত ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া, বিজ্ঞাপনদাতাদের সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

এর আগে ২০২২ সালে, শাহরুখ খান এবং অজয় দেবগনের সাথে 'বিমল এলাইচি'র একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা যখন এটি একটি তামাকজাত পণ্যের প্রচার হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত করেন, তখনই তিনি জনসমক্ষে এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অক্ষয় তখন এক্স (টুইটার)-এ লিখেছিলেন, ’আমি আমার সমস্ত ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। গত কয়েকদিন ধরে আপনাদের প্রতিক্রিয়া আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। যদিও আমি কখনো তামাকের প্রচার করিনি এবং করবও না, তবুও বিমল এলাইচির সাথে আমার যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশকে আমি সম্মান জানাই। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আমি এখান থেকে পিছিয়ে আসছি।’ 

কুমার আরও বলেন, ’আমি এই বিজ্ঞাপনের পুরো পারিশ্রমিক একটি ভালো কাজের উদ্দেশ্যে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চুক্তির আইনি মেয়াদের বাধ্যবাধকতার কারণে ব্র্যান্ডটি হয়তো বিজ্ঞাপনটি প্রচার করা চালিয়ে যেতে পারে, তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে ভবিষ্যতে আমার পছন্দের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকব। এর বিনিময়ে আমি চিরকাল আপনাদের ভালোবাসা এবং শুভকামনা কামনা করি।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..