✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৩:৩১:৩৪ |চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের প্রস্তাব তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া নতুন করে কয়েক লাখ সেনা সমাবেশ করতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো মার্কিন পক্ষের কাছে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে যুদ্ধ অবসানের দিকে দেশটির পরিকল্পনা পরিবর্তনেও যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের অবসান নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এরপর থেকে আলোচনা বন্ধ রয়েছে।
মস্কো ও কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই অঞ্চলের সশস্ত্র সংঘাতের কারণে শান্তি আলোচনা থমকে গেছে।
এদিকে নিজ দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, সেপ্টেম্বরে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাশিয়া নতুন করে সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা করছে।
জেলেনস্কি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চান, যাতে মনে হয় রাশিয়ার জনগণ যুদ্ধকে সমর্থন করছে। এরপর তথাকথিত নির্বাচনের পর বছরের শেষ নাগাদ কয়েক লাখ রুশ নাগরিককে দ্রুত সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরও একই সংখ্যক মানুষকে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। এর বাইরে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগের যে প্রচেষ্টা চলছে, সেটিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ায় আংশিক সেনা সমাবেশের অনুমোদন দিয়েছিলেন পুতিন। ওই সময় প্রায় ৩ লাখ মানুষকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর থেকে ইউক্রেন নিয়মিতই দাবি করে আসছে, রাশিয়া নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রুশ কর্মকর্তারা এসব দাবি অস্বীকার করেছেন। গত মার্চে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, নতুন করে সেনা সমাবেশের বিষয়টি ‘আলোচ্যসূচিতে নেই’।
এ ছাড়া গত মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভও বলেন, দেশটিতে নতুন করে সেনা সমাবেশের ‘কোনো প্রয়োজন নেই’। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি ‘মিথ্যা উসকানি’ ও ‘প্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।