জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী কাঁকড়া

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৪:৩৩:৩৩ |

কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির বক্স ক্রাব বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। এটি মো. ইলিয়াছ মাঝির জালে ধরা পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অন্য মাছের সঙ্গে এই কাঁকড়াটি মৎস্যবন্দর মহীপুরের আঁখি ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হয়। 

অদ্ভুত দেখতে এ কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না, এ নিয়ে জেলেদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা বিক্রি না করে আড়ত ঘাট-সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীতে কাঁকড়াটিকে ছেড়ে দেন। 

জেলেরা জানান, খোলস গোল ও বেশ চওড়া, সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় শরীর অনেকটা গোল। খোলস উঁচু ও শক্ত এবং ওপরের অংশ গম্বুজের মতো দেখতে। খোলসের ওপর ঘন কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ এটি অন্য কাঁকড়ার প্রজাতি থেকে আলাদা করে রেখেছে। দুই পাশে বড় ও মোটা দাঁড়া বক্স ক্রাবের বৈশিষ্ট্য। 

আঁখি ফিশের মো. আলামিন জানান, অনেক মাছের সঙ্গে এ কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। তবে এ ধরনের কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না। জীবিত কাঁকড়াটিকে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, এ বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময়, কাদাময় নরম সমুদ্রতলে, কখনো প্রবাল প্রাচীর-সংলগ্ন এলাকায় ১০–১০০ মিটার গভীরতায় এগুলো পাওয়া যায়। তবে কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে এখানকার মানুষ এগুলো খায় না। 

এ বিষয়ে শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানান, এ কাঁকড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া। যা সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ কাঁকড়া খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উপকূলে এ ধরনের কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ না করে প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..