সৌদি জাহাজে হুতিদের হামলা, এবার কি যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান-তুরস্ক?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১০:১১:৪৬ |

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী দাবি করেছে, বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। মঙ্গলবার হুতি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

এর আগে, বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইয়েমেনের কোস্ট গার্ড। তবে সৌদি সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে হামলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

হুতিদের এই হামলার দাবিকে ঘিরে সম্ভাব্য সৌদি প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর অন্যতম কারণ, সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলার মধ্যে তিন দেশের এই সমঝোতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মক্কায় স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে পারস্পরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই চুক্তিটির অন্যতম লক্ষ্য।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এসব উড়োজাহাজ সেখানে পাঠানো হয়।

সেসময় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সামরিক সমন্বয় আরও জোরদার করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও জোরদার হবে বলে জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়।

বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে হামলার হুতিদের দাবি এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেটিই নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সমঝোতার পর এ ধরনের হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..