প্রাইজমানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপের আগে প্রতিযোগী দেশগুলোকে সুখবর দিলো ফিফা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৯, | ১৩:০৭:০১ |
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে আর্থিক রাজস্ব আয় নিয়ে শঙ্কায় ছিল ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ, ব্যবস্থাপনা এবং কর মিলিয়ে প্রতিযোগী দেশগুলোকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের হিসাব করতে হচ্ছে। এমনকি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টিকে থাকলেও লোকসান এড়ানোর ঝুঁকি ছিল তাদের বিবেচনায়। এ ছাড়া বেশ কিছু দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের উদ্বেগ জানায় টুর্নামেন্টকেন্দ্রিক ব্যয় নিয়ে। এসব বিবেচনায় এবার বিশ্বকাপের প্রতিযোগী দলগুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়াচ্ছে ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। এর আগে ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ২০২২ আসরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার করার কথা জানিয়েছিল ফিফা। এবার তারা সম্প্রসারিত এই আসরের বাণিজ্যিক সাফল্যের কারণে আর্থিক অঙ্কটা আরও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিল সভায় ৪৮টি অংশগ্রহণকারী সদস্য দেশের জন্য বরাদ্দ ১৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ফিফার তথ্যমতে– মোট তহবিল বেড়ে দাঁড়াবে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার। প্রতিটি দল প্রস্তুতি খাতে ২.৫ মিলিয়ন ডলার পাবে, যা আগে ছিল ১.৫ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সাপেক্ষে বরাদ্দ অর্থও ৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের খরচে ভর্তুকি এবং অতিরিক্ত টিকিট বরাদ্দসহ অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হবে, যার মোট মূল্য ১৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

সব দেশের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ফিফা গর্বিত যে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে, যার মাধ্যমে আমাদের সদস্য দেশগুলোকে অভূতপূর্ব সহায়তা করতে সক্ষম। এটি প্রমাণ করে যে ফিফার সম্পদ আবার ফুটবলের উন্নয়নেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।’

এর আগে উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিস্তৃত এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ, ভিন্ন করব্যবস্থা এবং বড় ধরনের পরিচালনাগত চাহিদার কারণে কিছু অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, তাদের কিছু সদস্য দেশ আশঙ্কা করছে যে দলগুলো গভীর পর্যায়ে না পৌঁছালে খরচ উঠানো কঠিন হতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপ হবে পুরুষদের টুর্নামেন্টের প্রথম আসর, যেখানে ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে মেগা টুর্নামেন্টটি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা, যেখানে অধিক দল, বেশি ম্যাচ এবং টিকিট, স্পন্সরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া ফিফার সদস্যভুক্ত ২১১টি দেশকে আগামী চার বছরের চক্রে দেওয়া হবে ৫ মিলিয়ন ডলার করে। ৬০ মিলিয়ন ডলার করে পাবে ছয়টি মহাদেশীয় সংস্থা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..