মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার আভাস মিলেছে। পাশাপাশি ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারে। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম এক মাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছার পর আবার নিম্নমুখী হয়েছে। খবর রয়টার্স।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের আলোচনা ব্যর্থ হলেও দুদিনের মধ্যে পাকিস্তানে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসলে যুদ্ধের তীব্রতা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এরপরই গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮২৯ দশমিক ৭০ ডলারে অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে যুদ্ধের অবসানের আশায় এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোয় চাঙ্গাভাব দেখা গেছে, যা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ওসিবিসির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আগের রাতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়লেও সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগেই বেশি আগ্রহী।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজার এখন পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যের খবরের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও জ্বালানি তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা বা হেজ হিসেবে স্বর্ণ ব্যবহার হলেও উচ্চ সুদহারের সম্ভাবনা মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমিয়ে দেয়।
এ জাতীয় আরো খবর..