সর্বশেষ :

ব্রিটেনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে রেকর্ডসংখ্যক পরিবার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৫, | ১৩:১১:৪৪ |
ইরান সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন বিকল্প পথে হাঁটছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক পরিবার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ‘গ্রিন এনার্জি’র দিকে ঝুঁকছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সৌর প্যানেল, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি এবং হিট পাম্পের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে।

মূলত আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ‘এনার্জি প্রাইস ক্যাপ’ বা জ্বালানির মূল্যসীমা কার্যকরের পর মাসিক বিলে বড় ধরনের উল্লম্ফনের আশঙ্কায় ব্রিটিশ পরিবারগুলো আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী জুলাই থেকে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি বিল ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক খরচ ১ হাজার ৯২৯ পাউন্ডে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অক্টোপাস এনার্জির তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে হিট পাম্পের ক্রয়াদেশ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ইভির নতুন লিজ গ্রহণের হার বেড়েছে ৮৫ শতাংশের বেশি।

বাজারের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ গ্যাস জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সৌর প্যানেল স্থাপনের বিষয়ে গ্রাহকদের আগ্রহ ও অনুসন্ধান প্রায় ২৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে হিট পাম্পের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অক্টোপাস এনার্জির চিফ প্রডাক্ট অফিসার রেবেকা ডিব-সিমকিন বলেন, ‘ব্রিটিশ পরিবারগুলো এখন আর বিশ্ববাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যের হাতে জিম্মি থাকতে চায় না। মানুষ এখন নিজের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ ও হিট পাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদে কম খরচে জ্বালানি নিশ্চিত করছে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো বড় ধাক্কা থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে।’

যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবার বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ যারা গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত নন, তারা ঘর গরম রাখতে হিটিং অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। এ তেল সরকারের প্রাইস ক্যাপ বা মূল্যসীমার আওতায় পড়ে না। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেট ফুয়েলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিটিং অয়েলের দামও। উল্লেখ্য, ইউরোপ জেট ফুয়েল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য পারস্য উপসাগরের ওপর নির্ভরশীল।

সাধারণ ভোক্তারা জানান, যুদ্ধের আগে ৫০০ লিটার হিটিং অয়েলের দাম ছিল ২৫০ পাউন্ড, যা মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে ৭০০ পাউন্ডে গিয়ে ঠেকেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..