বর্তমানে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এমন কোনো সোনালি ঈগল নেই। তবে স্কটল্যান্ডে সংরক্ষণ প্রকল্পের কারণে সেখানে পাখিটির সংখ্যা আবার বেড়েছে, এবং সেখান থেকে কিছু ঈগল মাঝে মাঝে সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর ইংল্যান্ডে চলে আসে ও ঘুরে বেড়ায়
‘রিচার্ড থ্রি’ নাটকে একাধিকবার সোনালি ঈগলের উল্লেখ করেছিলেন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, যা ওই সময়ের ইংল্যান্ডে পাখিটির পরিচিতি ও ব্যাপক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তবে সময়ের পরিবর্তনে সোনালী ঈগল আর ইংল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দা নয়। এক দশক আগেও সামান্য কয়েকটি ঈগল দেখা যেত, তারও স্থায়ী প্রজনন বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, ২০১৫ সালের দিকে মারা যায় শেষ স্থানীয় ঈগলটি।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর হয়তো আবার ইংল্যান্ডে অবাধে উড়ে বেড়াবে সোনালি ঈগল। কারণ ব্রিটিশ সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে শিকারি ও কৃষকদের হাতে নিধন, পাশাপাশি মানুষের বসতি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডজনিত চাপের কারণে ধীরে ধীরে দেশটির আকাশ থেকে প্রায় হারিয়ে যায় আইকনিক পাখিটি।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এমন কোনো সোনালি ঈগল নেই। তবে স্কটল্যান্ডে সংরক্ষণ প্রকল্পের কারণে সেখানে পাখিটির সংখ্যা আবার বেড়েছে, এবং সেখান থেকে কিছু ঈগল মাঝে মাঝে সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর ইংল্যান্ডে চলে আসে ও ঘুরে বেড়ায়।
এ পরিস্থিতিতে ফরেস্ট্রি ইংল্যান্ড একটি বিস্তারিত গবেষণা চালিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে এখন আবারো সোনালি ঈগল টিকে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গবেষণায় অন্তত ৮টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো পাহাড়ি, বিস্তৃত ও কম জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ঈগলের বসবাস ও শিকার করার জন্য উপযুক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আগামী এক দশকের মধ্যে স্কটল্যান্ড থেকে আসা ঈগল ইংল্যান্ডে আরো নিয়মিতভাবে দেখা যেতে পারে। অবশ্য স্থায়ীভাবে প্রজননকারী প্রজাতি গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য সরকার নতুন করে ১০ লাখ পাউন্ড অর্থায়ন করেছে, যা দেশটির জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই ৬-৮ সপ্তাহ বয়সী তরুণ সোনালী ঈগল নির্ধারিত এলাকাগুলোয় অবমুক্ত শুরু হতে পারে। লক্ষ্য হলো ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে পাখিগুলো আবার স্থায়ীভাবে বসবাস ও প্রজনন করতে পারে।
ব্রিটিশ সরকার বলছে, এটি শুধু একটি প্রতীকী প্রকল্প নয়। বরং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রজাতির সংখ্যা হ্রাস থামানো এবং ২০৪২ সালের মধ্যে বিলুপ্তির ঝুঁকি কমানোর জাতীয় লক্ষ্য পূরণের অংশ। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী এমা রেনল্ডস জানিয়েছেন, সরকার বিপন্ন ও হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সোনালি ঈগলকে আবার ইংল্যান্ডের প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনা সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় জনগণ, জমির মালিক এবং পরিবেশ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়া হবে। এর লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সোনালি ঈগল উপস্থিতি গড়ে তোলা যায়।
এ জাতীয় আরো খবর..