✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৫, | ১৭:৪৩:৫৮ |যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধবিমান যখন শত্রু এলাকায় ভূপাতিত হয়, তখন সঙ্গে সঙ্গেই একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য থাকে- ক্রুদের উদ্ধার করা, গোপন প্রযুক্তি রক্ষা করা, এবং শত্রুর হাতে কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্য বা প্রচারণামূলক সুবিধা না দেওয়া।
এই ধরনের অভিযানের মূল কাঠামো আসে পার্সোনেল রিকভারি জয়েন্ট পাবলিকেশন (পিআরজেপি) থেকে, যেখানে দুটি প্রধান নির্দেশনা দেওয়া থাকে। প্রথমত, বিমানচালক বা ক্রুদের নিরাপদ রাখা ও উদ্ধার করা। দ্বিতীয়ত, সংবেদনশীল বা গোপন প্রযুক্তি ও সিস্টেম সুরক্ষিত করা।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, নথিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ইতিহাসে দেখা যায়- প্রতিপক্ষরা বন্দীদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রচারণা, কিংবা আলোচনার সময় চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
যখন একটি জেট ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ভূপাতিত হয়, তখন আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উদ্ধারকারী দলগুলো প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মোতায়েন করা হয়। এরপর শুরু হয় একটি বহুস্তরবিশিষ্ট উদ্ধার অভিযান। এই অভিযানে অংশ নেয় বিশেষ বাহিনী থেকে শুরু করে আকাশভিত্তিক নজরদারি প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন ইউনিট। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সবাই পাইলটের কাছে প্রথমে পৌঁছানোর জন্য কাজ করে। এই সমন্বিত অভিযানে বিশেষ অপারেশনস ফোর্স, উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ও সাপোর্ট এয়ারক্রাফট, নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী ড্রোন বা বিমান থাকে।
যদি বৈমানিক বিমান থেকে বেরিয়ে বেঁচে যান, তবে তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ধরা পড়া এড়ানো। উদ্ধারকারী দল অভিযানে যাওয়ার আগে তিনি ট্রেনিংয়ে শেখা টিকে থাকার কৌশলগুলো ব্যবহার করেন। এই পুরো সময়ে তার লক্ষ্য থাকে- নিজেকে নিরাপদ রাখা, অবস্থান গোপন রাখা এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সঠিক সময়ে সংযোগ স্থাপন করা।
পিআরজেপি এই প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে উল্লেখ করে, ‘সামরিক কমান্ডাররা উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নেন, পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন। এতে নিশ্চিত করা হয় যে- পাইলট এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রশিক্ষিত, বাহিনী উদ্ধারকাজের জন্য সক্ষম, এবং সেনারা দ্রুতগতিতে চলমান পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিল রেখে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে- যাতে মৃত্যু, বন্দি, শত্রু কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ, প্রচারণা চালানো বা আলোচনার সময় সুবিধা পাওয়ার জন্য তাকে ব্যবহার করতে না পারে।’
বিমান বাহিনীর প্যারা রেসকিউ জাম্পার, নেভি সিলস বা সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলোকে পাঠানো হতে পারে, যা সশস্ত্র হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকে। এছাড়া ড্রোন, স্যাটেলাইট ওঅন্যান্য নজরদারি বিমান থাকে। এগুলো পাইলটের রিয়েল-টাইম অবস্থান দেখায়, যাতে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ও নিরাপদভাবে পৌঁছাতে পারে।
ভূপাতিত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ নিরাপদ করা আরেকটি জরুরি কাজ। রাডার অ্যারে, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অস্ত্র ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল উপাদানগুলো শত্রুর হাতে যাওয়া রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি সৈন্যরা ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছাতে না পারে, তবে কোনো ধরনের উদ্ধারকাজ রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে ধ্বংসযজ্ঞের আশ্রয় নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিধ্বস্ত বিমানের দিকে ছুটে যায়, কারণ উদ্ধার না হওয়া জেট বিমানগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
যদি সৈন্যরা ধ্বংসাবশেষে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বোমা ব্যবহার করে সব ধ্বংস করে দিতে পারে, যাতে এর কোনো অংশই শত্রুপক্ষ সংগ্রহ করতে না পারে।
বিশ্লেষকরা বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি সাধারণত ভূপাতিত বিমানের দিকে তৎপর হয়, কারণ উদ্ধার না হওয়া বিমানগুলোতে প্রচুর গোয়েন্দা তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে, যা শত্রুর জন্য বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।
যদি কোনো পাইলট ধরা পড়েন, তবে শত্রুপক্ষ গোপনীয় তথ্য বের করে আনার চেষ্টা করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে এড়াতে চায়। ভূপতিত বিমানকর্মীদের কাছে পৌঁছানোর দৌড় প্রায়শই মিনিটে পরিমাপ করা হয়।
টিকে থাকা, এড়ানো, প্রতিরোধ এবং পালানোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাইলটরা শত্রুসেনার পেছনে লুকিয়ে থাকতে, গোপনে যোগাযোগ করতে এবং চরম চাপ সহ্য করতে শেখে। তাদের মূলনীতি হলো ধরা পড়া এড়ানো এবং বেঁচে থাকা।
২০১২ সালে পূর্ব আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর, এলাকায় তালেবান বাহিনী থাকা সত্ত্বেও জোট বাহিনী দ্রুত উভয় পাইলটকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংকটে ইরানের আকাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হওয়া নিখোঁজ এফ-১৫ পাইলটের জন্য অন্ধকার একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। রাতের অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে থাকে, কারণ তাদের বাহিনীর কাছে অনেক উন্নতমানের রাত্রিকালীন দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন সরঞ্জাম এবং ইনফ্রারেড যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যা পাইলটকে শনাক্ত হওয়া এড়ানোর আরও ভালো সুযোগ করে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার ইরান একটি এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। এছাড়া, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলায় একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি