সর্বশেষ :

‘লিবারেশন ডে’র এক বছর

ব্র্যান্ডেড ওষুধে শতভাগ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প, পরিবর্তন এল ধাতব পণ্যে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৪, | ১৭:৪২:৩৯ |
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ঘোষিত বিস্তৃত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল করেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। নতুন শুল্কের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আদালতের রায়ে হারানো রাজস্ব পুনরুদ্ধার। একইসঙ্গে শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে এ ঘোষণা

নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডেড ওষুধ আমদানির ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা সংক্রান্ত শুল্ক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছেন। আলোচিত ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণার এক বছরের মাথায় গতকাল শুল্ক-সংক্রান্ত এসব পরিবর্তন এল। খবর রয়টার্স।


গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ঘোষিত বিস্তৃত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল করেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। নতুন শুল্কের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আদালতের রায়ে হারানো রাজস্ব পুনরুদ্ধার। একইসঙ্গে শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে এ ঘোষণা।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব শুল্ক নতুন খরচের চাপ তৈরি করতে পারে।

ফার্মাসিউটিক্যাল আমদানি নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি জাতীয় নিরাপত্তা তদন্তের ফল প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, পেটেন্টকৃত ওষুধ উৎপাদনকারী বিদেশী কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে হবে। এর আওতায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো এবং উৎপাদন কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

এ শর্ত দুটো পূরণ করলে শুল্ক এড়ানো যাবে। উৎপাদন আংশিক স্থানান্তর হলে শুল্ক হবে ২০ শতাংশ। আর যদি কোনো শর্তই পূরণ না করে, তাহলে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।

সব দেশের ক্ষেত্রে এ শুল্ক সমভাবে প্রযোজ্য হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ব্র্যান্ডেড ওষুধের শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি আলাদা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে, যার আওতায় ব্রিটেনে উৎপাদিত ওষুধের ওপর অন্তত তিন বছর কোনো শুল্ক থাকবে না।

প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এ নীতিমালা মানতে ১২০ দিন সময় দেয়া হবে, আর ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য সময়সীমা ১৮০ দিন।

ট্রাম্প আরেকটি ঘোষণায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা দিয়ে তৈরি অনেক পণ্যের ওপর শুল্ক হার অর্ধেকে নামিয়ে ২৫ শতাংশ করেছেন। যেসব পণ্যে ধাতুর ব্যবহার খুবই কম, সেগুলোর ওপর শুল্ক পুরোপুরি তুলে দেয়া হয়েছে।

তবে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার কাঁচামালের আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমদানির ঘোষিত মূল্যের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি মূল্যের ওপর নির্ধারণ করা হবে শুল্ক, যা আগে অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে কম দেখানো হতো।

এ পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো জটিল শুল্ক ব্যবস্থাকে সহজ করা। আগে হাজার হাজার পণ্যের মধ্যে ধাতুর পরিমাণ নির্ধারণ আমদানিকারকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যেমন ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ, স্টেইনলেস স্টিলের সিঙ্ক বা রেলওয়ে সরঞ্জাম।

যেসব পণ্যে ওজনের ১৫ শতাংশের কম ধাতু রয়েছে সেগুলো আর শুল্কের আওতায় থাকবে না।

এছাড়া বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত কিছু ভারী যন্ত্রপাতির শুল্ক ৫০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত, যাতে শিল্প ও ডাটা সেন্টার নির্মাণ ত্বরান্বিত হয়।

এ নতুন শুল্ক পরিবর্তন আগামী সোমবার মধ্যরাতের পর থেকে কার্যকর হবে।

পদক্ষেপগুলো এল ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’র এক বছর পূর্তিতে। গত বছরের ২ এপ্রিল আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপ করেছিলেন তিনি, যা জনবসতিহীন দ্বীপগুলোর ওপরও প্রযোজ্য ছিল।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..