নাইজেরীয়দের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের ব্যবহৃত পণ্য দেশটির নতুন পণ্যের চেয়ে বেশি টেকসই। কিন্তু এ বিশ্বাসের আড়ালে দেশটিতে দানা বাঁধছে এক ভয়াবহ পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংকট
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের কানো অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় ইলেকট্রনিকস হাব ‘সাবন গারি’ বাজার। প্রতিদিনই সেখানে থাকে উপচে পড়া ভিড়। বাজারে ভিড় ঠেলে গিয়ে একটি ফ্রিজ কিনতে দেখা যায় ৩৪ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতা কর্মী মারিয়ান শামাহকে। সামান্য আয়ে নতুন ফ্রিজ কেনা সাধ্যের বাইরে হওয়ায় ব্যবহৃত বা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ পণ্যই তার একমাত্র ভরসা।
শামাহ জানান, ৫০ হাজার নায়রা (প্রায় ৩৬ ডলার) দিয়ে একটি ফ্রিজ কিনে বাড়ি ফিরলেও মাস না পেরোতেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে শামাহর সারা জীবনের সঞ্চয়টুকু তো গেলই, সঙ্গে পচা খাবারের দুর্গন্ধে নষ্ট হলো ঘরের পরিবেশও।
শামাহর মতো কোটি কোটি নাইজেরীয়ের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের ব্যবহৃত পণ্য দেশটির নতুন পণ্যের চেয়ে বেশি টেকসই। কিন্তু এ বিশ্বাসের আড়ালে দেশটিতে দানা বাঁধছে এক ভয়াবহ পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংকট।
উন্নত বিশ্বের ফেলে দেয়া নষ্ট বা প্রায় অকেজো ইলেকট্রনিক পণ্য এখন নাইজেরিয়ার স্থানীয় বাজারগুলোয় সয়লাব হয়ে যাচ্ছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ই-বর্জ্য সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রতি বছর বন্দর দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টন ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য নাইজেরিয়ায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার ৭০০ টন পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। বিশাল এ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে বিদেশী রফতানিকারক দেশগুলো।
২০১৫-১৬ সালে পরিচালিত জাতিসংঘের এক ট্র্যাকিং গবেষণায় দেখা গেছে, নাইজেরিয়ায় আমদানীকৃত ইলেকট্রনিকসের ৮৫ শতাংশেরই উৎস জার্মানি, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড।
এসব আমদানির একটি বড় অংশই ‘বাসেল কনভেনশন’-এর মতো পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য, উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বিপজ্জনক ইলেকট্রনিক বর্জ্য পাঠানো বন্ধ, বিশেষ করে যেখানে পরিবেশগত আইন তুলনামূলক শিথিল সেসব দেশে। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাইজেরিয়ার ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলোয় যখন এসব নষ্ট যন্ত্রাংশগুলো স্তূপ করা হয়, তখন তা মাটির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানিকেও বিষাক্ত করে তোলে। সাধারণ মানুষ সস্তায় বিদেশী পণ্য কিনতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আরো বড় আর্থিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..