✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২১৩ কোটি হাতিয়েছে রিং আইডি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২১-১০-০৩, | ০৬:১৩:২০ |

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরে ই-কমার্স ব্যবসায় নামা আলোচিত রিং আইডি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। গত মে মাসে ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, জুন মাসে ১০৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং জুলাই মাসে ৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছে রিং আইডি। তিন মাসে তারা হাতিয়ে নিয়েছে মোট ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। রাজধানীর ভাটারা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গত শুক্রবার গুলশান থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর আঁখি বেগম নামের এক ভুক্তভোগী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কন্ট্রোল অ্যাক্টের আওতায় মামলা করেন। সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শনিবার আদালতের নির্দেশে সাইফুলকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের বিষয়েও তদন্ত চলছে। রিং আইডি যেন অবৈধভাবে দেশের বাইরে টাকা পাচার করতে না পারে সে জন্য এরই মধ্যে তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার রিং আইডির অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে তিন মাসে ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে। তাদের এসব সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছুদিন আগে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার থেকে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়। বিএফআইইউ এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ ছাড়াও রিং আইডি ইস্যুতে সাইবার পুলিশ সেন্টারে মানি লন্ডারিং বিষয়ে একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের আমানত গ্রহণের অনুমোদন নেই। রিং আইডির সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস, যার আড়ালে এই আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ খাতে বিনিয়োগ করে। বর্তমানে সন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্রডাক্ট বিক্রি ও ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল।

এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী সিআইডির উপপরিদর্শক সোহেল রানা।

রিং আইডিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন এমন অভিযোগে আঁখি বেগমের করা মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শরিফুল ইসলাম, ইরিন ইসলাম, সালাহউদ্দিন, আহসান হাবিব, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, আব্দুস সামাদ, রেদোয়ান রহমান ও রাহুল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, একটি সংঘবদ্ধ ডিজিটাল প্রতারকচক্র রিং আইডির আড়ালে কয়েন বিক্রি করে ইলেকট্রনিক লেনদেনের সাহায্যে অর্থ সংগ্রহ করত। অভিযুক্তরা সহজে আয়ের পথ হিসেবে মানুষকে রিং আইডিতে বিনিয়োগে প্ররোচিত করেছে। ২০১৯ সালে বাদী আঁখি বেগম, তাঁর দুই ভাই ও এক ভাগ্নে মোট ৮৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে আঁখির এক ভাই একবার শুধু সামান্য অঙ্কের কিছু টাকা উত্তোলন করতে পেরেছিলেন। এরপর আর কোনো লাভ পাননি, বিনিয়োগের মূল টাকাও ফেরত পাননি।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..