✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে মাস্কের বিপুল অর্থায়ন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৩, | ১৪:০৯:০৪ |

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে গত বছর থেকে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিত এই ধনকুবেরের বিপুল অর্থায়ন নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের কারণে দলটিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে মাস্কের ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৬ মিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে রিপাবলিকানদের সিনেট প্রার্থীদের সহায়তার জন্য গঠিত একটি বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলে। এ অর্থায়নের মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ অর্থ দাতার অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির নেতা। গত বছর হোয়াইট হাউসের বিশেষ সরকারি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মাস্ক।

মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান দেওয়া সংস্থা ‘আমেরিকা পিএসি’ তার ব্যয়ের পরিমাণ নিশ্চিত করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়া ঠেকাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা জরুরি।

সংস্থাটির মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও বলেন, এই বিনিয়োগের কারণে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারব্যবস্থা ভোটারদের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে অতীতের নির্বাচনী প্রবণতাকে ভুল প্রমাণ করে দলটির জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এমন সময়ে মাস্কের এই অর্থায়নের তথ্য সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের শাসনামল নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধনী দাতা ও বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, এ ধরনের বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রতিযোগিতা প্রভাবশালী এবং বিত্তশালী গোষ্ঠীর স্বার্থের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।

গত জুনে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হন মাস্ক। তাঁর মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নাসডাক শেয়ারবাজারে প্রথমবারের মতো শেয়ার ছাড়ার পর তাঁর সম্পদের পরিমাণ ওই পর্যায়ে পৌঁছায়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। গত মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যথেষ্ট করেছি।’ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে নিজস্ব প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও বিপুল সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছেন মাস্ক। গত বছর জার্মানির রাজনীতিবিদেরা দেশটির জাতীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে। জার্মানির ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) পার্টির প্রকাশ্য সমর্থক মাস্ক। দলটির বিরুদ্ধে অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈষম্যমূলক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ভোটাররা কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন।

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানরা অর্থের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিপুল ব্যয় এ সুবিধার অন্যতম কারণ। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি বিশেষ রাজনৈতিক তহবিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার’ আন্দোলনের নাম থেকেই তহবিলটির নামকরণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’-এর তহবিলে ৪১৬ মিলিয়ন ডলার জমা ছিল। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য বলছে, শুধু গত এক মাসেই তহবিলটি ২২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। টেক্সাসে সিনেটের একটি শূন্য আসন ঘিরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে প্রার্থীদের প্রচারে এ অর্থ খরচ করা হয়।

এদিকে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচার জোরদার করেছেন ট্রাম্প। দলটির বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ধারণা, অর্থ ব্যয়ে এগিয়ে থাকলেও ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ কাটিয়ে ওঠা রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হবে।

ডেমোক্র্যাটদের সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা রাজনৈতিক তহবিল ‘সিনেট মেজরিটি পিএসি’-এর মুখপাত্র লরেন ফ্রেঞ্চ বলেন, রিপাবলিকানরা মনে করছেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় কেনা সম্ভব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের অজনপ্রিয় প্রার্থী, অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট এবং অজনপ্রিয় অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে বিভিন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে দলটি।

সূত্র : আল জাজিরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..