✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৩, | ১৩:২৬:১৩ |

নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সম্ভাবনা তার অন্যতম উদাহরণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ৭ বছর আগে গড়ে ওঠা এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বাণিজ্যিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

উৎপাদন সক্ষমতা আরো বাড়াতে দু’টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। 

পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম পথ প্রদর্শক হয়ে ওঠেছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে প্রায় ১শ’ ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে নির্মাণ করা হয় ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কাপ্তাই সৌর বিদ্যু কেন্দ্র।

এক সময়ের অব্যবহৃত পরিত্যক্ত জমিতেই এখন সারি সারি সৌর প্যানেল। সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি শুধু পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে সোলারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন উৎস। সূর্যের আলোর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সাথে তা পরিণত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে।

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটা অনেক লাভজনক একটি প্রকল্প। এর জনবল এবং খরচ অনেক কম। রক্ষনাবেক্ষণ বলতে শুধুমাত্র পরিস্কার রাখতে হয়। এছাড়া তেমন কোন খরচ নাই। আবহাওয়া খারাপ থাকলে কিছুটা উৎপাদন কম হলেও উৎপাদন থেমে থাকে না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর প্রসার আরো বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরো জানান, কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে আরো ১ মেগাওয়াট এবং নতুন ৭ দশমিক মেগাওয়াট প্রকল্পের কাজ চলছে।

তিনি জানান, আমাদের ব্রিকফিল্ডে আরেকটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট করার প্রক্রিয়া চলমান  এবং এর টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে তেল,গ্যাস, কয়লার প্রয়োজন হয় না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি করছে এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি কোনো জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে একদিকে আমদানি নির্ভরতা

কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে কার্বন নি:সরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমান সক্ষমতার পাশাপাশি কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুতের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।

পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে কাপ্তাইয়ের এই সফল সম্ভাবনাকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার এবং সোলার পার্ক স্থাপনে আরো বিনিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি ও উপযুক্ত জমিতেও সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানো গেলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি তৈরি হতে পারে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার আর সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এমন উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ।

দেশের এক দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান। এই অঞ্চলের পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে থাকা সুবিশাল পাহাড়ী অঞ্চলকে সরকারের পক্ষ থেকে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এনে কাজে লাগানো গেলে 

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল একটি যোগান দেয়া সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে পাহাড়ের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন এখন সরকারি উদ্যোগ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..