✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

ডেঙ্গু থেকে উপ-নির্বাচন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির যেসব সিদ্ধান্ত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৩, | ১৩:৪৪:৩৬ |

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারাদেশে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণ ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে বিএনপি। শনিবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়।

রিজভী জানান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য হিসেবে তিনি, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও চিকিৎসক ডোনার প্রথমবারের মতো বৈঠকে অংশ নেন। আগের সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেসব বিষয় তখনও মীমাংসিত হয়নি, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচারপত্র ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের জেলা ও উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া কার্যক্রম ও দেওয়া নির্দেশনাগুলো বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালে মশারি সরবরাহের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে মানুষকে সুরক্ষায় এটিকে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উদ্যোগগুলোর অন্যতম বলে উল্লেখ করেন রিজভী। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকেও আলাদা জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক একটি প্রচারপত্র তৈরি করে ঢাকাসহ সারাদেশে বিতরণ করবে দলটি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গার্লস গাইড, স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান নিয়মিত ও বারবার প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রিজভী বলেন, দল ও সরকারের নেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিএনপি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

স্কুল-মাদরাসা ও হাট-বাজারে বিন স্থাপনে গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আবর্জনা ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। রিজভী বলেন, স্কুল, মাদরাসা, কলেজ ও হাট-বাজারে অনেক সময় আবর্জনা রাখার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকে না। এসব স্থানে আবর্জনা রাখার জন্য বিন স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুল, মাদরাসা ও কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং হাট-বাজারের কমিটিগুলোকে এ ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হবে। প্রয়োজন হলে দলীয়ভাবেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে বলে জানান রিজভী।

তার ভাষ্য, যেখানে আবর্জনা জমে থাকে সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটে এবং এডিস মশার বিস্তারও হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপি সচেতনতামূলকভাবে কাজ করবে।

সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণ নিয়েও আলোচনা

ডেঙ্গুর পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা যাওয়ায়, কেউ দলীয় কার্যক্রমের বাইরে চলে যাওয়ায় কিংবা কেউ বহিষ্কৃত হওয়ায় যে শূন্যপদ তৈরি হয়েছে, সেগুলো পূরণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। রিজভী জানান, এসব শূন্যপদে সংশ্লিষ্ট কমিটির ‘ইমিডিয়েট নিচে’ থাকা নেতাদের পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না, তা দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৯ অক্টোবর মির্জা ফখরুলের আসনে নির্বাচন

বৈঠকে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনের নির্বাচন নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিই ওই নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। সভায় প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

রিজভী বলেন, ২৯ অক্টোবরের শূন্য আসনের নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটিই বিএনপির নির্ধারিত সময়সূচি।

কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়নি

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হলেও দলের কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, শূন্যপদগুলোর বিষয়টি মূলত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের। এসব পর্যায়ে বিভিন্ন কারণে পদ শূন্য হয়েছে। গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সেসব পদ পূরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..