✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

ব্যাট নিয়ে নিজের বিশেষ সম্পর্কের কথা জানালেন শচীন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৩, | ১৩:২৪:১২ |

সময়ের পরিক্রমায় ক্রিকেট অনেক কিংবদন্তি ব্যাটার উপহার দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে শচীন টেন্ডুলকার যে পরিমাণ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তা খুব কম খেলোয়াড়ই পেয়েছেন। কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ৩৪,৩৫৭ রান ও ১০০টি সেঞ্চুরি করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রান ও সেঞ্চুরির মালিক হিসেবেই তিনি অবসরে যান। অবসরের পরেও বিশ্বজুড়ে নতুন ক্রিকেটারদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণার অংশ। তাইতো এক বাক্যে অনেকে তাকে সর্বকালের ওয়ানডে ক্রিকেটারের স্বীকৃতি দেন।

মাঠে সমর্থক-ভক্তরা তার ব্যাটিংয়ের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখলেও, এর পেছনে ছিল কঠোর প্রস্তুতি ও শ্রম। নিজের খেলার সরঞ্জাম, বিশেষ করে ব্যাটের ব্যাপারে টেন্ডুলকার ছিলেন অত্যন্ত খুঁতখুঁতে। হাতে ব্যাটটি কেমন লাগছে বা ধরায় কতটা স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে, সেদিকে তিনি বিশেষ নজর দিতেন।

সম্প্রতি এই কিংবদন্তি ব্যাটার ভক্তদের সামনে নিজের ব্যাটের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি দিক তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শচীন কাঠের কাজের সরঞ্জাম (কার্পেন্ট্রি কিট) দিয়ে নিজের একটি ব্যাট ঠিক করার সময়কার একটি ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাটটি হাতে একদম ঠিকঠাক মনে না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রায়শই নিজেই তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সামঞ্জস্য আনতেন।

পোস্টে এই কিংবদন্তি বলেন, আমার কাছে ব্যাট কখনোই কেবল খেলার একটি সরঞ্জাম ছিল না। হাতে নিলে কেমন অনুভূতি হবে, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় আমার জানা ছিল। তাই প্রায়ই আমি আমার কাঠের কাজের সরঞ্জাম (কার্পেন্ট্রি কিট) বের করে নিজেই ব্যাটটি নিয়ে কাজ করতাম; আকার দেওয়া বা সামান্য অদলবদল করে ঠিক মনের মতো করে নিতাম।

সেই মুহূর্তগুলোর কথা কেন এত ভালোবেসে মনে রেখেছেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারতের এই সাবেক ব্যাটার বলেন, তার ব্যাটগুলো কেবল খেলার সরঞ্জাম বা যন্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। আমার মনে হয়, ঠিক এ কারণেই ছোটখাটো সেই মুহূর্তগুলোর কথা আমার এত ভালো মনে পড়ে। বিষয়গুলো আসলে কেবল ব্যাট নিয়ে ছিল না; বরং ব্যাটটিকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার বিষয় ছিল এটি।

কিছুটা ভারী ব্যাট ব্যবহার করতেন শচীন

সমসাময়িক অনেক খেলোয়াড়ের তুলনায় কিছুটা ভারী ব্যাট ব্যবহারের জন্য পরিচিত ছিলেন টেন্ডুলকার। ভারী ব্যাটের প্রতি তার এই পছন্দের সূত্রপাত হয়েছিল একেবারে শুরুর দিনগুলোতে, যখন তিনি তার বড় ভাই অজিতের ব্যাট দিয়ে খেলা শুরু করেছিলেন। সমবয়সী অন্য শিশুদের ব্যবহৃত ব্যাটের তুলনায় সেই ব্যাটটি ভারী হওয়ায়, টেন্ডুলকার ধীরে ধীরে সেই বাড়তি ওজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পেশাদার ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি সেই পছন্দটিই বজায় রেখেছিলেন।

নিজের আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’-তে টেন্ডুলকার জানিয়েছেন, তাকে মাঝে মাঝে হালকা ব্যাট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে তিনি কখনোই সেই পরিবর্তনে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি, কারণ তার ব্যাটিং কৌশলটি গড়ে উঠেছিল সেই ভারী ব্যাটের ওজনের ওপর ভিত্তি করেই।

নিজের আত্মজীবনীতে কারণটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, আমি বেশ ভারী ব্যাট ব্যবহার করতাম এবং মাঝেমধ্যে আমাকে হালকা ব্যাট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতো। আমি চেষ্টাও করেছিলাম, কিন্তু কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিনি; কারণ আমার ব্যাট চালানোর ভঙ্গি বা ‘সুইং’ পুরোটাই নির্ভর করত সেই ওজনের ওপর। ড্রাইভ খেলার সময় প্রয়োজনীয় শক্তি বা পাওয়ার তৈরির জন্য ওই ওজনটা আমার দরকার হতো। পুরোটাই ছিল টাইমিং বা সময়ের সঠিক ব্যবহারের বিষয়।

টেন্ডুলকারের কাছে খেলার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, কোনো ব্যাটার যখন নির্দিষ্ট কোনো ব্যাটের সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে যান, তখন অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তনের খুব একটা কারণ থাকে না। তিনি বলেন, আমার মতে, ব্যাট হওয়া উচিত হাতেরই একটি বর্ধিত অংশ। আর যখন ব্যাটটি আপনার হাতেরই অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা পরিবর্তনের প্রয়োজন কী? ব্যাটিংয়ের সময় আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি ছিল স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা। যতক্ষণ আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম, ততক্ষণ কোথায় খেলছি বা প্রতিপক্ষ কে তা কোনো বিষয়ই ছিল না।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..