✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

সেলুন ছেড়ে কৃষিতে, মালচিং পদ্ধতিতে সফল মাঈন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৩, | ১৮:১৭:২৬ |

একসময় সেলুনের ব্যবসা করতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মাঈন উদ্দিন। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে যাতায়াতের সুবাদে কৃষির প্রতি তৈরি হয় আগ্রহ। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। বিভিন্ন সবজি চাষের পর এবার আধুনিক প্রযুক্তির মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন এই কৃষক।

মাঈন উদ্দিন নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। এরপর পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি। স্বল্প পরিসরে লাউ, করলা, শিম, বেগুন ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছেন।

চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে এবং বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো উন্নত জাতের বীজ ও মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেন মাঈন। আধুনিক এ পদ্ধতিতে প্রথমবারেই ভালো ফলন পাওয়ায় তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উৎসাহ।

মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা কৃষিকাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্গে মাঠে যাওয়া-আসা করতাম। তখন থেকেই কৃষির প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে পার্পল কিং জাতের বেগুন চাষ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মালচিং দেওয়ার পর জমিতে আগাছা কম হয়েছে। মাটির আর্দ্রতাও ভালো থাকছে। এতে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হয়েছে।’

মাঈন জানান, বর্তমানে তাঁর জমি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি বেগুন সংগ্রহ হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বাজারে দাম ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন ১২০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। জমিতে থাকা বেগুন থেকে আরও প্রায় দুই মাস নিয়মিত ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, ‘মাঈন উদ্দিন প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাঁর জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো মৌসুম শেষে মাঈন উদ্দিন তিন লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঈন উদ্দিন মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মাঈনের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় চার বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেলুনের ব্যবসা ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে মাঈন উদ্দিনের এই সাফল্য এলাকার অন্য কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়মিত প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে লাভবান হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..