সর্বশেষ :
নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার সারাদিন কানে ইয়ারবাড? অজান্তেই বাড়ছে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি ইসলামাবাদ চুক্তির আড়ালে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের গোপন মধ্যস্ততায় ইরাকি নেতা বারজানি! ফেরারির প্রথম ইভি ‘লুচে’ বিক্রি ৪ কোটি ডলারে নেতানিয়াহুর নির্বাচনি বিলবোর্ডে ইরান-হিজবুল্লাহ নেতাদের পাশে মামদানি আইআরজিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠকের খবরে ইরানের প্রতিক্রিয়া ‘আমেরিকান পরিবারগুলো তাদের নেতাদের জুয়া খেলার মূল্য দিচ্ছে’ র‌্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে এসআরবি, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন হামের উপসর্গে আরো ৭ জনের প্রাণহানি

ইসলামাবাদ চুক্তির আড়ালে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৭, | ২৩:১১:৫৫ |
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়কে কূটনীতির বদলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রস্তুতিতে কাজে লাগিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে সময় নিচ্ছে এমন আশঙ্কা করছে তেহরান। এ কারণে গত দুই মাসে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বাড়িয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে কট্টরপন্থিদের বসিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদ চুক্তির আওতায় সমঝোতার স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা সোমবার শেষ হচ্ছে। তবে এ সময়ে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি; বরং কয়েক দফা নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুপক্ষ।

ইরানি ও আরব কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে একটি কৌশলগত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। তাদের ধারণা, ইরান এখন তার বাহিনীকে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার জন্য প্রস্তুত করছে।

ইসলামাবাদ চুক্তির আড়ালে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যে পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এরদোয়ান
তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মোহাম্মদ হাসান সাঙ্গতারাশ পত্রিকাটিকে বলেন, ইরানে ব্যাপকভাবে এমন ধারণা রয়েছে যে, মূল যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরাক, ইয়েমেন ও লেবাননে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের উত্তেজনা বাড়ার আগে আইআরজিসি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কৌশল নিয়েও তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

২০ জুলাই হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এরপর হুতিরা সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোর বিস্তারিত লক্ষ্য তালিকাও আইআরজিসি সরবরাহ করেছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে জার্নাল।

সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। সংঘাতের পর সেখানে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কয়েক দফা বেড়েছে।

তবে সংকট নিরসনে পরোক্ষ যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি পথ নির্ধারণে সমঝোতা হয়েছে এবং জলপথটি যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দুই দেশ চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দিতে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। ফলে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..