অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কখনো টেস্ট জিতেনি বাংলাদেশ। অজিদের বিপক্ষে টাইগারদের টেস্টে একমাত্র জয় হোম ভেন্যু মিরপুরে। এবার স্বাগতিকদের মাটিতেই টেস্ট জেতার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। ইতোমধ্যে প্রথম ইনিংস শেষে তারা বিদেশের মাটিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ২২৮ রানের লিড নিয়েছে।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে পিচের সুবিধা লুফে নিয়েছে বাংলাদেশি পেসাররা। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস তারা মাত্র ১৯৮ রানে থামিয়ে দেয়। এরপর তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি ও দুই হাফসেঞ্চুরিতে ৪২৬ রান তুলে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হতাশা জমানো লিড নিল। যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার হার এড়ানো অনেক কঠিন।
প্রথম ইনিংস শেষে বেশ কয়েকটি রেকর্ড করেছে টাইগাররা।
৪২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে ৪২৬ রান এশিয়ার বাইরে বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে অজিদের বিপক্ষে টেস্টে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ফতুল্লায় ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত টেস্টে বাংলাদেশ ৪২৭ রান করেছিল। আর এশিয়ার বাইরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ৫৯৫, ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
২২৮
বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংস শেষে সর্বোচ্চ ২২৮ রানের লিড নিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নেওয়া ১৯২ রান ছিল তাদের সর্বোচ্চ লিড। তবে নিজেদের ইতিহাসে এরচেয়েও চারটি বড় লিডের রেকর্ড আছে টাইগারদের, যার সবকটিই ছিল দেশের মাটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯৭, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০১, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৯৫ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৩৬ রানের লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ।
৯২
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৮ বা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২ বল মোকাবিলা করলেন হাসান মাহমুদ। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে সর্বোচ্চ ৯৭ বল খেলেছেন নাসির হোসেন।
এছাড়া নবম অস্ট্রেলিয়ান বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছালেন জশ হ্যাজলউড। বাংলাদেশকে ৪২৬ রানে থামানোর পথে তিনি ৬ উইকেট শিকার করেছেন। টেস্টে এটি তার ১৪তম ফাইফার।
পরিসংখ্যান যা বলছে
২০০০ সালের পর অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ন্যূনতম ১৫০ রানে পিছিয়ে থাকার পর মাত্র তিনবার ম্যাচ জিতেছে। এর মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ ২০৬ রানের লিড, ২০১০ সালে সিডনি টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই জয় পায় অজিরা। এছাড়া ২০০৪ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬১ এবং ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৮ রানে পিছিয়ে থাকার পর তারা জয় পেয়েছে।
এর মানে ২০০০ সালের পর দুশর বেশি লিডে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ মাত্র একবার জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ অবশ্য ২২৬ রানের লিড নিয়েছে ডারউইনে। এছাড়া ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর (প্রতিপক্ষ ভারত) ঘরের মাঠে প্রথমবার দুশর বেশি রানে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া প্রথম ইনিংসে ২০০+ রানে ৮২ বার পিছিয়ে পড়ে তারা মাত্র তিনবার জিতেছে।
যদিও প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৯৭ রানে পিছিয়ে থাকার পরও টেস্টে জয়ের রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া ১৯৫০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩৬ রানে পিছিয়ে থাকার পর অজিরা টেস্ট জিতেছিল।
এ জাতীয় আরো খবর..