ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ, আসছে নতুন নিয়ম

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১১, | ০৯:২৩:৩৯ |
সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পুরোপুরি অটোমেশনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও অনলাইনে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার এক সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে অটোমেশন করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে সেলফ সার্ভিস মডিউল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক নিজেই ঘরে বসে সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

যেভাবে হবে সঞ্চয়পত্র কেনা
নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের অনলাইন সিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) যুক্ত করা হবে। ফলে সঞ্চয়পত্র কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।

হিসাব যাচাইয়ের পর পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য গ্রাহককে ব্যাংক বা সঞ্চয় অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

এ ব্যবস্থায় ব্যাংক হিসাবের মালিকানা যাচাই করা যাবে। ফলে অন্যের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্র কেনা, ভুল বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

রিয়েল টাইমে হিসাব যাচাইয়ের উদ্যোগ
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানান, ইতোমধ্যে iBAS++ সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। ভবিষ্যতে এটি রিয়েল টাইমে করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ও মালিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে ভুল তথ্য দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এ ব্যবস্থা।

চেকের মাধ্যমে কেনাতেও আসছে পরিবর্তন
বর্তমানে চেকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকি রয়েছে। চেকের অর্থ ব্যাংকে জমা বা ক্লিয়ার হওয়ার আগেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়ে যেতে পারে। এতে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।

এ সমস্যা সমাধানে জাতীয় সঞ্চয় ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ ঘরের (ক্লিয়ারিং হাউস) সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চেক ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র ইস্যু বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

কেন নেওয়া হচ্ছে এই উদ্যোগ
গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ জালিয়াতির বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস সঞ্চয়পত্র বিক্রিকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যও রয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের মধ্যে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অটোমেশনের আওতায় আনার নির্দেশনা রয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনা এবং মুনাফা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ
তবে পুরো ব্যবস্থাকে দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আনতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, প্রযুক্তিগত জটিলতা, রিয়েল টাইম ভেরিফিকেশন চালু করা এবং গ্রাহকের ডিজিটাল দক্ষতা অন্যতম।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস তৈরি করাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে অটোমেশন কার্যকর করা গেলে সঞ্চয়পত্র কেনাবেচায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকসেবাও আরও সহজ হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..