✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১০, | ১৯:২৫:০৪ |সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে তুরস্ককে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে এই চুক্তি হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো যুদ্ধ অবসানের জন্য চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
শুক্রবার মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর কোনও বহিরাগত শক্তির সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা শুরুর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি হলো। ওই হামলা থেকে শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও ব্যাহত হয়।
তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করার সময় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক—তিন দেশই আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কোনও পক্ষকে সরাসরি বিরূপ করার বিষয়ে সতর্ক ছিল।
তিন দেশ জানিয়েছে, বহু বছরের আলোচনা ও প্রচেষ্টার ফল এই চুক্তি। এতে কোনও নির্দিষ্ট দেশকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে চুক্তিটি করা হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিটি অন্য কোনও দেশের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল কিংবা প্রতিস্থাপন করবে না বলেও জানানো হয়েছে।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া আপাতত সংযত
ইরানে চুক্তিটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও বেশ সংযত। দেশটির কর্মকর্তারা বরং আঞ্চলিক ও মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিদ্বেষপূর্ণ বহিরাগতদের সব চ্যালেঞ্জ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে পারি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, এখন নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব গ্রহণের সময়। তবে কয়েক ঘণ্টা আগেই মক্কায় স্বাক্ষরিত সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক চুক্তির কথা তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি।
তবে দীর্ঘমেয়াদে ইরানের কিছুটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলে মনে করেন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে গবেষক ও বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি।
ক্লিনগেনডেল ইনস্টিটিউটের এই গবেষক বলেন, চুক্তিটির সময় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং প্রতিবেশী ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে।
তেহরানের দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ শুধু সৌদি আরবের প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘ডিটারেন্স’ বাড়া নয়। বরং ভবিষ্যতে এই চুক্তি ইয়েমেন ও ইরাকে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত চাপ তৈরির পথ করে দিতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ানো হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলার দাবি
এর মধ্যেই রবিবার হুথিরা সৌদি আরবের জিজানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগারে সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুনের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
ইয়েমেনের আরেকটি ঘটনায় সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন লোহিত সাগরের বন্দর আল-মাখায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। বন্দরটির অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হুথিরা জানিয়েছে, তারা সেখানে অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লোহিত সাগরে হামলার হুমকি দেওয়া কিংবা জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে।
‘একটি শক্তিশালী ব্লক’ কি তৈরি হচ্ছে?
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে শনিবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি ধারণা দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ও আইনবিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক হোসেইন নৌশাবাদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, তেহরান মূলত চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি উপস্থিতি ও নিরাপত্তা প্রভাব কমে যাওয়ার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখছে।
তার ভাষায়, এই চুক্তিকে ‘পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আধিপত্যের পতনের সূচনা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে বহিরাগত শক্তির চাপিয়ে দেওয়া ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক কাঠামোর অবসান এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বলয় থেকে অঞ্চলটির বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হতে পারে।
নৌশাবাদি এর আগে ওমানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ মুহূর্তে ইরানের জন্য হুমকি নয়
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অধ্যাপক ভালি নাসর মনে করেন, এই চুক্তিকে এখনই তেহরানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে এগুলো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকাবিহীন একটি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান।”
তার মতে, চুক্তিটি সরাসরি তেহরানকে মোকাবিলা করার উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসেরও একটি ভারসাম্য তৈরি করছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সৌদি আরবের কাঙ্ক্ষিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিও যুক্ত করেছেন।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি কাতারের অধ্যাপক মেহরান কামরাভাও মনে করেন, ইরানের নীতিনির্ধারকেরা আপাতত এই চুক্তিকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দেখছেন না।
এর একটি কারণ হলো, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্ক—দুই দেশেরই সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ রয়েছে।
কামরাভা বলেন, এই চুক্তি একেবারে নতুন কিছু নয় এবং অন্তত এখন পর্যন্ত এর বাস্তব সামরিক গুরুত্বের চেয়ে প্রতীকী গুরুত্বই বেশি।
তার মতে, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সৌদি আরবের ওপর হামলা সত্ত্বেও তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চাইবে না।
ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে উদ্বেগ
তবে ইরানের সবাই যে চুক্তিটি নিয়ে সন্তুষ্ট, তা নয়।
দেশটির কিছু কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা ও গণমাধ্যমের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত নেটওয়ার্ক- যাকে ইরান ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করে- তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে, এই চুক্তি সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা মনে করছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম আজিজি বলেন, আরব দেশগুলো শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারছে যে, নিরাপত্তা বাইরে থেকে আমদানি করা যায় না; বরং অঞ্চলটির ভেতরেই তা তৈরি করতে হবে। তবে এ জন্য এখনও একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই।
এক্সে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুল হিসাব বা ভুল সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক ভুল হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইরান প্রমাণ করেছে, প্রতিটি ভুলের মূল্য দিতে হয়। তার মতে, সামনে এগোনোর একমাত্র পথ হলো ভারসাম্য।
কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাইও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ‘কাগুজে চুক্তি’ সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না- যেমন বছরের পর বছর একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও দেশটি কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পায়নি।
ইরান কি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে পড়ে যাচ্ছে?
ক্লিনগেনডেল ইনস্টিটিউটের গবেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হবে এই চুক্তিকে প্রকাশ্য ইরানবিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়া।
এ জন্য সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক- তিন দেশের সঙ্গেই আলাদাভাবে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে ইরান।
তেহরান একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সেই অবস্থানও তুলে ধরতে পারে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা শেষ পর্যন্ত বহিরাগত শক্তির হাতে নয়, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের হাতেই থাকা উচিত।
আজিজি বলেন, যদি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মনে করে যে, এই চুক্তি ইরান বা ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে ইরানের জন্য এই কাঠামোর অংশ হওয়া আরও কঠিন হবে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এই চুক্তি যদি কেবল একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী জোট না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিণত হয়, তাহলে ইরানের অংশগ্রহণের প্রশ্নও নতুনভাবে সামনে আসতে পারে।
ভবিষ্যতে কি ইরানও সদস্য হতে পারে?
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না যে, বহু দূরের ভবিষ্যতে ইরান নিজেই এই ধরনের নিরাপত্তা কাঠামোর সদস্য হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তবে তার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হবে হরমুজ প্রণালি ও পুরো অঞ্চলজুড়ে হামলা ও সংঘাতের একটি টেকসই অবসান।
অন্যদিকে, নিকট ভবিষ্যতে এই কাঠামোতে আরও কয়েকটি আরব দেশ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মিসরের নাম ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে কায়রোর জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। কারণ এতে দেশটির নিজস্ব কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক স্বার্থের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থা, ইসরায়েলের নীতি ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল মনে করেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা একই সঙ্গে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা উদ্বেগ ও সম্ভাবনার প্রতিফলন।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থা, ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতিতে পরিবর্তন এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে তিন দেশ আরও ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তুলতে একত্রিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এখনই ইরানবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে একটি নতুন ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে হরমুজ প্রণালি, ইয়েমেন, ইরাক ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর বাস্তব ভূমিকা ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে। তখন প্রতীকী চুক্তিটি শুধু তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে উঠবে- সেটিই হবে মূল প্রশ্ন। সূত্র: আল-জাজিরা