সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

ইলিশের ভরা মৌসুম, বরফ সংকটে সাগরে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১০, | ১৮:৪৬:০৬ |

ইলিশের ভরা মৌসুমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট। চাহিদার তুলনায় বরফের সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫০ টাকার একটি বরফের ক্যান এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, অন্যদিকে বাড়তি খরচের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন ট্রলার ও বরফকলের মালিকেরা। এ পরিস্থিতিতে মৎস্য বন্দরগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩৬টি বরফকল রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এসব বরফকলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো বরফকল দিনে মাত্র ২০ থেকে ২৫ ক্যান বরফ উৎপাদন করতে পারছে। আবার কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত উৎপাদন করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ উৎপাদন হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চাহিদামতো বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল থেকে ট্রাকে করে বরফ আনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’

অপর মৎস্য ব্যবসায়ী সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘ইলিশের মৌসুমে প্রতিদিন শত শত ট্রলার সাগরে যায়। ট্রলারগুলোতে মাছ সংরক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন হয়। বরফের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব পড়বে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে।’

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাশেম জানান, পটুয়াখালীতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে চাহিদার প্রায় ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে এবং ঘাটতি পূরণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট কেটে গেলে এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু হলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তবে মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকদের দাবি, ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই মৌসুমে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে অন্তত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বরফ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এতে সাগরে মাছ ধরার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন মৎস্যজীবীরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..