সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

সাতক্ষীরার চার প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১০, | ১৮:০৬:০৬ |

​চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্নমাধ্যমিক, নৈশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়। সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা না পাওয়া, প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তদারকহীনতার কারণেই শিক্ষার পরিবেশ ধসে পড়ে এই নজিরবিহীন বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানা গেছে। 

​শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ চিত্র বিশ্লেষণ করলে শিক্ষা কার্যক্রমের চরম দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ বছর মানবিক বিভাগে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যাদের মধ্যে একজনও পাসের মুখ দেখেনি বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা। 

অন্যদিকে দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। 

বর্তমানে একজন শিক্ষিকা ও একজন ধর্মীয় শিক্ষক নামমাত্র যুক্ত থাকলেও তারা স্কুলে সময় দেন না। বাধ্য হয়ে একা অফিস সহকারী হিসেবে তিনিই স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছেন। অথচ গত বছরও এই বিদ্যালয় থেকে পাঁচজনের মধ্যে চারজন পাস করেছিল, যা এবার শূন্যে নেমে এসেছে।

​একই বিপর্যয় ঘটেছে সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল) এবং শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়েও। 

নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফলের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান। তিনি জানান, বোর্ড ও অনলাইন নথি দেখার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। 

অন্যদিকে শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​পর পর চারটি প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেগুলোর পেছনে মূল কারণ কী তা দ্রুত অনুসন্ধান করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..