✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৮, | ১৪:৪০:১২ |গোয়েন্দা কাহিনিতে ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ বেশ পরিচিত একটি কৌশল। সুন্দরী নারীর মাধ্যমে লক্ষ্য ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। এবার এমনই এক ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডার।
সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩১ মে রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে প্রথমে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি তিহার কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই আদালতে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। শনিবার ভারতীয় বায়ুসেনা ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রায় দুই মাস তার গ্রেফতারের তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঘটনাটি শুধু ওই কর্মকর্তার তথ্য ফাঁসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের একটি বড় গুপ্তচর নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক সময় ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে নিয়মিত কথোপকথন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওই নারী সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মকর্তা সামরিক ইউনিটের চলাচল, কোথায় কোন ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের তথ্য ওই নারীর সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। এমনকি সামরিক ইউনিটের চলাচল ও মোতায়েনের ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন নথিও পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ, ওই নারী পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এবং ওই কর্মকর্তা পরিকল্পিত প্রেমের হানিট্র্যাপের শিকার হয়েছেন। তবে ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় ও তার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ওই নারী নাকি ওই কর্মকর্তাকে তার এক সহকর্মীর মুঠোফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেটি গুপ্তচরবৃত্তির সফটওয়্যার অথবা দূরবর্তীভাবে মুঠোফোন নিয়ন্ত্রণের ক্ষতিকর সফটওয়্যার হতে পারে।
এ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে মুঠোফোনের তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্ত করা কিংবা কথোপকথন রেকর্ড করার সুযোগ থাকে। ফলে তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধু একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং অন্য প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মুঠোফোন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যেও প্রবেশের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
দিল্লি পুলিশের সন্দেহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা নারীকে পাকিস্তানভিত্তিক একটি গুপ্তচর চক্র পরিচালনা করছিল। বর্তমানে তদন্তকারীরা ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা কথিত নিয়ন্ত্রকদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগের সূত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা ও নারীর মধ্যে কোন কোন মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, কী পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে এবং এসব তথ্য শেষ পর্যন্ত কার কাছে পৌঁছেছে- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের ধারণা, পুরো ঘটনাটি একটি সুসংগঠিত গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রমের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তাই ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণ, এর সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এর সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।
সূত্র : এনডিটিভি