সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

বর্ষা এলেই বন্ধ স্কুল!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৪, | ১৭:২৫:৪৯ |
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা গ্রাম হালদারপাড়া। গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতে পাকা সড়ক নেই। গ্রামের তিন পাশে ইছামতী নদী আর পশ্চিমে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত। নদী পার হতে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। 

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় চারশ বিঘার মতো কৃষিজমি রয়েছে। কিন্তু বেহাল যোগাযোগব্যবস্থা। কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালপত্র কখনও মাথায় কখনও বা ঘাড়ে করে পরিবহন করতে হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা কেউ অসুস্থ হলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। গ্রাম থেকে বের হতে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অন্যত্র যেতে নদী পারাপারের বিকল্প নেই। নদীতে নেই কোনো সেতু।  সাঁকোতে নদী পার হতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে রোগী নিতেও কষ্টের শেষ নেই তাদের। বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে পারাপারে ঝুঁকি থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসতিও স্থাপন করেছেন।

গ্রামের বাসিন্দা শ্যামকুড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাকলী হালদার জানায়, বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে ভয় করে। মাঝেমধ্যে অনেকে নদীতে পড়েও যায়। কাকলীর মা জানান, শুকনো মৌসুমে যাতায়াতে কষ্ট একটু কম হয়। তবে বর্ষা এলে কাদায় চলা যায় না, নদীতে পানি বাড়লে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না।
গ্রামের গৃহবধূ আমেনা খাতুন বলেন, গ্রামের প্রধান সমস্যা হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা নেই। নদী পার হওয়া ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। কিন্তু বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গেলে ভয়ে থাকি কখন পড়ে যাই নদীতে। ক্ষেতের ফসল বাজারে পাঠাতেও খুবই কষ্ট হয়।

অপর বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব সাগর হালদার বলেন, ‘আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনেকেই আসেন। আমাদের অবস্থা দেখে যান। তারা নদীতে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন, কিন্তু সেতু আর হয় না। আমাদের কষ্ট থেকেই যায়। সেতু নির্মাণ হলে আমাদের কষ্ট কমে যেত, গ্রামটিরও উন্নতি হতো।’  

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে ইছামতী নদীতে সেতু নির্মাণে শিগগিরই সরকারের সেতু বিভাগে চিঠি দেওয়া হবে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..