✕

সর্বশেষ :
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনিবার খোলা থাকবে কিনা, যা জানা গেল শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, শুক্রবার বাজবে ঢাকের বাদ্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও নিষিদ্ধ ক্রিমসহ কোটি টাকার পণ্য জব্দ উত্তরায় সড়ক ছাড়লেন শ্রমিকরা, যান চলাচল স্বাভাবিক কৃষি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে আগ্রহী কানাডা বগুড়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক কৃষি খাত লাভজনক করতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি

বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে করণীয় কী?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৮:৫০:৪২ |
গুনাহ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও এটি মূলত ফার্সি শব্দ। সাধারণভাবে যার অর্থ দ্বারায় পাপ বা অন্যায়। মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশের পরিপন্থি সব কাজই গুনাহ বা পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে গুনাহ বা পাপ মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে—‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহ এবং ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ।

বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে সগিরা বা ছোট গুনাহ মাফ হলেও তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা না করে মারা গেলে নিশ্চিত জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে। এ জন্য পাপ বা গুনাহ হয়ে গেলে পবিত্র হতে মহান রবের কাছে খাঁটি তওবার বিকল্প নেই।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝর্ণাসমূহ প্রবহমান।’ (সুরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৮)

তবে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে প্রায়সময়ই অনেকে গুনাহ ছেড়ে তওবা করার পর আবারও গুনাহে লিপ্ত হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একবার তওবার পরও অনেকে একই গুনাহে লিপ্ত হন। বিশেষ করে গোপনে গুনাহ বা প্রকাশ্যে যেসব গুনাহের কাজ রয়েছে, বারবার সেসব গুনাহে লিপ্ত হন। এমন হলে সঠিক পথে ফিরে আসতে করণীয় কি?

এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মত, একই গুনাহ বারবার হয়ে গেলে বারবার তওবা করতে হবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালার গুণবাচক নামগুলোর একটি হলো ‘তাওয়াব’। এর অর্থ যিনি বারবার তওবা কবুল করেন বা বারবার তওবা কবুলকারী। এজন্য যতবার গুনাহ হবে, ততবার মহান রবের কাছে তওবা করতে হবে এবং গুনাহের মাফ চাইতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি যে, গুনাহ হয়ে গেলে যদি কেউ খাঁটি তওবা করে, তবে মহান রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত খুশি হন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা বান্দার তওবার কারণে সেই লোকটির চাইতেও বেশি খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে পরে তা আবারও পেয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৭০)

এছাড়াও মহান আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নামের মধ্যে ‘তাওয়াব’ (التواب) বা তওবা কবুলকারী, ‘আল-আফুর’ (الْعَفُوُّ) বা গুনাহ ক্ষমাকারী এবং ‘আল-গাফুর’ (الْغَفُورُ) বা পরম ক্ষমাশীল ইত্যাদি নাম রয়েছে। সুতরাং, তওবার পরও বারবার একই গুনাহ হয়ে গেলে কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, খাঁটি তওবা করে আল্লাহর কাছে গুনাহের ক্ষমা চেয়ে সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, পবিত্র কুরআনে খোদ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)। অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..