✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে সৌদি আরবের বিশাল ছাড়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:২৯:৪৯ |

এশিয়ার বাজারে ক্রেতা ধরে রাখতে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। তবে এই নজিরবিহীন মূল্যহ্রাসের পরও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সৌদি ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো বেশি। ফলে ওপেক প্লাসের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির তেল কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা কমে গেছে। আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরব তাদের জনপ্রিয় ‘আরব লাইট’ ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১ মার্কিন ডলার কমিয়েছে।

এর ফলে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার কম দামে এশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহ করবে দেশটি। একই সঙ্গে সৌদি আরব আরও চার ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামও প্রতি ব্যারেলে ১১ মার্কিন ডলার করে কমিয়েছে।

সৌদি আরবের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গত জুনে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এতে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম কমেছে। পরিবর্তিত এই বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূল্যছাড় দিয়েছে সৌদি আরব।
তেল ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রেতা আকর্ষণ করতে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য সরবরাহকারী দেশও তাদের তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার বিশ্লেষক এমা লি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের মূল্যছাড় অস্বাভাবিক নয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্পট গ্রেডের তেল আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেলের চাহিদা দুর্বল থাকায় ক্রেতারা এখন কম দামের বিকল্পের দিকেই ঝুঁকছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাডনক, ইরাকের সোমো এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও ক্রেতা আকর্ষণে মূল্যছাড় দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও চীনসহ এশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারে প্রতিযোগিতামূলক দামে তেল বিক্রি করছে।

ছাড়ের পরও কেন পিছিয়ে সৌদি তেল?

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্য কমানো হলেও পরিবহন ব্যয়ের কারণে সৌদি তেল এখনো তুলনামূলক ব্যয়বহুল। পারস্য উপসাগরের অভ্যন্তরে জাহাজ চলাচলের খরচ ও ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অন্যান্য উৎস থেকে তেল আমদানির তুলনায় সৌদি তেলের মোট ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ভারতের একটি শোধনাগারের এক কর্মকর্তা জানান, একই মানের তেল অন্য দেশ থেকে আরও কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তাই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সৌদি তেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে।

একজন তেল ব্যবসায়ী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সোহার বন্দর থেকে তুলনামূলক কম খরচে তেল সংগ্রহ করা যাচ্ছে। বিপরীতে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে তেল আনতে জাহাজভাড়া অনেক বেশি পড়ে। ফলে ব্যারেলপ্রতি মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে সৌদি আরব বড় ধরনের মূল্যছাড় দিলেও পরিবহন ব্যয় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর কম দামের কারণে এশিয়ার বাজারে দেশটির অবস্থান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..