✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

৩০০ বিলিয়ন ডলারের ফান্ড নয়, ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৭, | ১০:৫৭:২৯ |

ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এটি ভুল ব্যাখ্যা বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, এটি কোনো অনুদান, ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা নয়। বরং শর্ত মেনে চললে ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানান, চলমান যুদ্ধ বন্ধে তারা একটি প্রাথমিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবেই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এই তহবিল সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে—এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো অর্থ বা অনুদান থাকবে না।

জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু বর্তমান নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব নয়। যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করতে পারে, ফলে অন্য দেশগুলো সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা ইরানকে টাকা দিচ্ছি না। আমরা শুধু বলছি, তারা আচরণ পরিবর্তন করলে অন্য দেশগুলোকে সেখানে বিনিয়োগ করতে দেব, যাতে দেশটি উন্নতি করতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ইতোমধ্যে আংশিকভাবে প্রতিশ্রুত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার—কোম্পানিগুলো ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এই বিনিয়োগ মূলত জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে মোবারাকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে উৎসাহিত করা। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই তহবিল গঠন বা কার্যক্রম শুরু হবে না। একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলো চিহ্নিত ও পরিকল্পনা করা হবে।

এদিকে জানা গেছে, ইরান শুরুতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ দিতে রাজি হয়নি। ফলে এই বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক কাঠামোকে একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে ছিল। অথচ দেশটিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ এবং চতুর্থ বৃহৎ তেল ভান্ডার রয়েছে। পাশাপাশি ৯ কোটির বেশি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং বিপুল শিল্প সম্ভাবনা থাকায় বিদেশি বিনিয়োগ এলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..